বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেই রণক্ষেত্র, ভোলায় বিএনপি–জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য পৃথক আসন নির্ধারণ করা হয়, যাতে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়। তবে সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত সহিংসতার সূত্রপাত ঘটায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে জামায়াতে ইসলামের দৌলতখান উপজেলা শাখার আমির ও সেক্রেটারি তাদের আসনে বসেন। কিছুক্ষণ পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্যে ‘রাজাকার’ শব্দ ব্যবহার করেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা হাতাহাতি ও চেয়ারের ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে অনুষ্ঠানের পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। নারী, শিশু ও বয়স্ক অতিথিরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই লাঠি, চেয়ার ও কিল–ঘুষির আঘাতে আহত হয়েছেন।

জামায়াতের দৌলতখান উপজেলা সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রশাসনের আমন্ত্রণে তারা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত আসনেই বসেছিলেন। তাঁর দাবি, বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অন্তত ১৫ জন নেতা–কর্মী আহত হন। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে প্রশাসন ও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিজয় দিবসের মতো একটি দিনে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, আসন বণ্টন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে আনা হামলার অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সিকদার জানান, বসার জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। স্বাধীনতার মহান দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা সহিংসতার কারণে ব্যাহত হয়েছে।