নিরাপত্তার কারণে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে গেলেন মাসুদ

নরায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন করবো না এবং মনোনয়নও গ্রহণ করবো না। এ জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দল যাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেবে, আমি তার পক্ষ নিয়ে কাজ করবো।”

মাসুদুজ্জামান মাসুদ আরও জানান, গত কয়েক মাসে তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন এবং সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। তবে, ব্যক্তিগত কারণে এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির জন্য তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে তার পরিবারও চাইছে না তিনি নির্বাচন করুক। এজন্য তিনি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন এবং সাংবাদিক আরিফ আলম দিপুসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী।

উল্লেখযোগ্য যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি ৩ নভেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩ এবং ৫ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী নাম প্রকাশিত হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রথমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ছিল মাসুদুজ্জামান মাসুদের।

মাসুদুজ্জামান মাসুদের এই পদক্ষেপে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভোটপ্রার্থী ও দলের সমর্থকদের মধ্যে ধারা পরিবর্তন এবং নির্বাচনি কৌশল পুনর্গঠন প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা প্রার্থীর হঠাৎ সরে যাওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে পড়েছে এবং এতে ভোটপ্রার্থীদের মনোভাবের পরিবর্তনও অনিবার্য বলে মনে করা হচ্ছে।