সীমান্ত, সিম কার্ড ও সেলফি—ফয়সালের পালানোর পুরো নেটওয়ার্ক ফাঁস

শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনায় জড়িত শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের পালানোর কাহিনি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, এই পালানো ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে একাধিক ব্যক্তির সক্রিয় সহযোগিতা ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দ্রুত ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের দিকে রওনা হন। সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতে পৌঁছানোর পর ফয়সালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এখানেই সামনে আসে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য—একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে তার জন্য ভারতীয় সিম কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। এই সিম কার্ড ব্যবহার করেই ফয়সাল নিজের নিরাপদ অবস্থানের বার্তা দেয় এবং ছবি পাঠায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একজন অপরাধীর পালানো নয়, বরং একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের কার্যক্রম। রাজনৈতিক পরিচয়, সীমান্তের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক পালানোর পথ—সব মিলিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

ফয়সালের পাঠানো সেলফি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এটি তার আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতির প্রতিফলন। অনেকেই মনে করছেন, সে জানত যে তাকে সহায়তা করার মতো শক্ত লোক রয়েছে।

এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। একজন রাজনৈতিক প্রার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করে অপরাধীরা যদি অনায়াসে দেশ ছেড়ে পালাতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।