নোয়াখালীর জেলা শহর সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে শুক্রবার গভীর রাতে একটি পার্ক করা বাসে আগুন লেগে স্থানীয়দের মধ্যে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আগুনে বাসের ভেতরের বেশ কিছু আসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সৌভাগ্যবশত তখন কোনো যাত্রী ছিল না। স্থানীয়রা এবং কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, বাসটি তখন সড়কের পাশে স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল এবং আচমকা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সুনামধন্য “সুবর্ণ সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস”-এর ছিল এবং সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তরের পাশে পার্ক করা হয়েছিল। ড্রাইভার ও তার সহকারী রাতে বাস থেকে নেমে খাবারের জন্য বাইরে চলে যান এবং সব দরজা-জানালা বন্ধ করে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাছাকাছি একটি সিএনজি অটো রিকশায় চলাচলরত যাত্রীরা বাসের ভিতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন লক্ষ্য করেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের খবর দেন, যারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবুও, বাসের চার-পাঁচটি আসন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুধারাম থানার অফিসার ইন চার্জ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, “বাসের ভেতরে চার-পাঁচটি আসন আগুনে পুড়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রাইভার সম্ভবত বাইরে যাওয়ার সময় একটি মশার কেরোসিন বা কয়লাটি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, যা থেকে আগুন লেগেছে। তবে আমরা সমস্ত সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছি।”
এটি নোয়াখালীতে বাসে আগুন লাগার প্রথম ঘটনা নয়। ৩ ডিসেম্বর, উত্তর সোনাপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ডিপোতে তিনটি ডাবল ডেকার বাসে আগুন লেগে দুইটি বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস ও একটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, বাসস্ট্যান্ড এবং পার্কিং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ সাধারণ যাত্রীদের সতর্ক থাকতে এবং পার্ক করা বাসের আশেপাশে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখতে পেলে তা জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনা নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয় যে, গণপরিবহন কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও আগুননিরোধক নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।