ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা রিয়াদুস জুবাহ ওসমান হাদীর ওপর হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আইনের ওপর আমরা সবসময় ভরসা রেখেছি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা রাখি। কিন্তু আজ সেই আস্থার নির্মম পরিণতি আমাদের প্রিয় হাদি ভাইকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে দেখছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে কোনো দল নয়; আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল দেশের মানুষ, সেই জুলাইয়ের জনতা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল আপনার প্রথম দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্বে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।”
রিয়াদুস জুবাহ আরও বলেন, হামলায় জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে হবে। যারা এই ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড, তাদেরও দৃশ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা আবশ্যক। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এখন একমাত্র পথ।
তিনি বলেন, “যদি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াই না, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ আরও বিপন্ন হবে। ওসমান ভাইয়ের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি জুলাইয়ের চেতনার ওপর, দেশের সাহস ও মর্যাদার ওপর হামলা।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যারা বিদেশে বসে দেশে আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে বলি, ‘আপনারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশ কখনো অন্যায় ও চাপের কাছে মাথা নত করবে না।’
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা স্ক্যান্ডারিং করে হাদীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তারা সরকারের কাছে শক্ত নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনী সময় রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে জড়িত ন্যায়বিচারের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তারা আশ্বাস দেন, সমাজের সকল অংশ একত্রিত হয়ে অন্যায় ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নেবে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে।
