তিন মিনিটে সব বদলে দিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির বিপক্ষে ৩–০ গোলের করুণ হার যেন বার্সেলোনার জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সেই অপমানের পর বার্সা যেন বদলে গেল অন্য এক দলে। সমালোচকরা বলেছিলেন, ‘বার্সা আর বড় ম্যাচে লড়াই করতে পারে না।’ কিন্তু হান্সি ফ্লিকের দল মাঠে দেখিয়ে দিল—তারা শুধু পজিশন ফুটবল নয়, লড়াই করে জিততেও জানে। চেলসির বিপক্ষে সেই হার ইতিহাস হয়ে গেল, আর নতুন অধ্যায়ে লিখল ন্যূ ক্যাম্প।

গতরাতে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে ছিল একই ধাঁচের গল্প—প্রথমে গোল হজম, এরপর তীব্র কামব্যাক, এবং শেষে দর্শকদের উল্লাসে মাতিয়ে মাঠ ছাড়ার মুহূর্ত। গল্পের নায়ক? রাইট–ব্যাক জুলস কুন্দে। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই হেডে দুই গোল! দলকে এনে দিল মূল্যবান তিন পয়েন্ট এবং শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই আরও সহজ করে দিল।

এ ম্যাচে বার্সা বল দখলে ৭৬ শতাংশ আধিপত্য দেখায়; লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, গাভিদের ধারাবাহিক আক্রমণ তৈরি করে ১৯টি শটের সুযোগ। বিপরীতে ফ্রাঙ্কফুর্টের আক্রমণ ছিল খুব সীমিত, তবু প্রথম আঘাতটা তারাই হানে। ২১ মিনিটে হাই–লাইন ডিফেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে থ্রু–বলে আন্সগার গোল বার্সার রক্ষণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ততক্ষণে বার্সা দুইবার পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করে। প্রথমার্ধের সেই ব্যর্থতা যেন সতর্ক বার্তা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ৫০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন মার্কাস র‍্যাশফোর্ড। তাঁর বাঁ দিক থেকে নিখুঁত ক্রসে হেডে সমতা ফেরান কুন্দে। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই লামিনে ইয়ামালের ক্রসে আবার হেডে গোল—আরেকবার কুন্দে। ন্যূ ক্যাম্পে তখন ঝড়ের মতো গর্জন।

ফ্রাঙ্কফুর্ট এরপর কয়েকবার পাল্টা আক্রমণ সাজালেও গোলরক্ষক গার্সিয়ার দুইটি দুর্দান্ত সেভ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শেষ মুহূর্তে বার্সা তৃতীয় গোলের খোঁজে গেলেও লক্ষ্যেই রাখতে পারেনি, তবে জয়টা যথেষ্ট। কারণ ২০২২ সালে ইউরোপা লিগে ন্যূ ক্যাম্পে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিরুদ্ধে ২–৩ গোলের দুঃখজনক হার যে স্মৃতি, তার মলম হিসেবে এই জয় যথেষ্ট।

এই কামব্যাক শুধুই ট্যাকটিকসের ফল নয়, বরং মানসিকতা। বার্সা এখন সুন্দর ফুটবলের চেয়ে কার্যকর ফুটবলে জোর দিচ্ছে। কুন্দের ঝড় তা-ই প্রমাণ করল।