Table of Contents
বগুড়ার বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে এআই-তৈরি অশ্লীল ছবি ভাইরালের হুমকি, থানায় জিডি
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে কেন্দ্র করে নতুন এক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অশ্লীল ছবি বানিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. মেহেদী হাসান।
কী অভিযোগ, কখন—কীভাবে ঘটল?
জিডিটি করেছেন মোশারফ হোসেনের পক্ষে কাহালু উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন—
দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি অজ্ঞাতচক্র।
৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে মোশারফ হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যুক্ত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর—
+১ (৯১৬) ৪৭৭–৫৬৬২
—থেকে হঠাৎ বার্তা আসে।ওই বার্তায় অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয়।
দাবি না মানলে এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ যেন প্রযুক্তিকে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রার্থীকে সামাজিকভাবে হেয় করার এক নতুন কৌশল।
হুমকিদাতাদের উদ্দেশ্য—সুনাম নষ্ট ও ভোটার বিভ্রান্তি
জিডিতে আরও বলা হয়েছে—মোশারফ হোসেন বগুড়ার পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা নষ্ট করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে—এমনই দাবি অভিযোগকারীর।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| দীর্ঘদিন ধরে | ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার |
| ৮ ডিসেম্বর, সকাল ৯:৪৬ | বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা |
| ৮ ডিসেম্বর, সকাল | অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি |
| দাবি প্রত্যাখ্যান | অশ্লীল ছবি এআই দিয়ে তৈরি করে ভাইরালের হুমকি |
| ৯ ডিসেম্বর (সোমবার রাত) | বগুড়া সদর থানায় জিডি দায়ের |
মোশারফ হোসেনের বক্তব্য: “নির্বাচন সামনে, ষড়যন্ত্রও বাড়ছে”
‘দৈনিক করতোয়া’-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মোশারফ হোসেন বলেন—
“নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রও তত বাড়ছে।”
“ধানের শীষকে ঘিরে ভোটারদের অভাবনীয় সাড়া দেখে বিরোধীরা ভীত হয়ে পড়েছে।”
“ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে অপতথ্য ও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”
সর্বশেষ তাঁকে নারীর সঙ্গে আপত্তিকর এআই ছবি বানিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা, দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং সাধারণ ভোটারদের মনে সন্দেহ ছড়ানো।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
এটি কোনো সাধারণ হয়রানির ঘটনা নয়; বরং প্রযুক্তিকে অস্ত্রে পরিণত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বদনাম করার এক নতুন রূপ। বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন এআই–তৈরি অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার হুমকি অত্যন্ত গুরুতর।
পুলিশ জিডি নথিভুক্ত করেছে, তবে অপরাধীর পরিচয় এখনও অস্পষ্ট।
বগুড়া-৪ আসনের এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এই নতুন অধ্যায় নির্বাচনের মাঠে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং পুলিশ জানাচ্ছে—হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।