আজ সোমবার, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে, দেশের মুদ্রাবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। ব্যাংক ও খোলাবাজার উভয় ক্ষেত্রেই ডলারের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। গত সপ্তাহে কয়েক দিনের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর ডলারের দাম কিছুটা কমে আসে। বুধবার থেকে দাম আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করলেও গতকাল তা অপরিবর্তিত ছিল। আজ সেই ধারাবাহিকতায় ডলারের দর সামান্য কমে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার সর্বোচ্চ থেকে ১২২ টাকা ২৮ পয়সার সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। গড় দর দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ২৮ পয়সায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এই ওঠানামা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি ও রপ্তানি খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডলারের হঠাৎ ওঠানামা রপ্তানিতে লাভ-ক্ষতির হিসাবকে জটিল করে তোলে।
দেশে অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার দাম ও পরিবর্তনসমূহ নিম্নরূপ:
| মুদ্রা | আজকের দাম পরিবর্তন |
|---|---|
| ইউরো | হ্রাস পেয়েছে |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | হ্রাস পেয়েছে |
| ভারতীয় রুপি | হ্রাস পেয়েছে |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | হ্রাস পেয়েছে |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | হ্রাস পেয়েছে |
| চীনা ইউয়ান | অপরিবর্তিত |
| জাপানি ইয়েন | অপরিবর্তিত |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত দামের তুলনায় খোলাবাজারে মুদ্রার লেনদেন কিছুটা বেশি দামে হয়। এটি দেশের আমদানি খরচ, রপ্তানি রাজস্ব ও পণ্যের দাম নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সামান্য হ্রাস থাকলেও, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, সরবরাহ এবং দেশের রিজার্ভের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে ব্যাংক এবং ব্যবসায়ী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বাজার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো অপরিহার্য। ডলারের অস্থিরতা সাময়িক হলেও, এটি দেশের মুদ্রানীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মুদ্রাবাজারে চলমান ওঠানামা ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিনের বাজার পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি হিসাব ও প্রয়োজনীয় আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারীদের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।