বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কোটিপতি (এক কোটি টাকা বা তার বেশি জমা) হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের সম্পদ বৈষম্য এবং আয়ের অপ্রতুল বণ্টনকে আরও প্রকট করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১,২৮,০০০-এরও বেশি কোটিপতি হিসাব রয়েছে। তবে ব্যাংকের তথ্যমতে, সব ‘কোটিপতি হিসাব’ মানেই ব্যক্তিগত কোটিপতি নয়। এতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংস্থা এবং একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক হিসাবও অন্তর্ভুক্ত।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আর্থিক সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের সঞ্চয় কমছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগের সঞ্চয় খরচ করছেন। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত এবং বড় উদ্যোক্তাদের আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ও জমা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যাংক হিসাব ও জমার পরিসংখ্যান (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)
| শ্রেণি | সংখ্যা / পরিমাণ |
|---|---|
| মোট ব্যাংক হিসাব | ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি |
| কোটিপতি হিসাব (≥১ কোটি টাকা) | ১ লাখ ২৮ হাজার+ |
| জুন ২০২৫-এ মোট ব্যাংক জমা | ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা |
| সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মোট ব্যাংক জমা | ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা |
| মোট জমা পরিবর্তন (৩ মাসে) | প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা কম |
যদিও কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু মোট ব্যাংক জমা তিন মাসে কমেছে, যা বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। অর্থনীতির একাংশ লাভবান হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আর্থিক চাপ তীব্র হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রবণতা
দেশে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বিগত কয়েক দশকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী:
| বছর | কোটিপতি হিসাব সংখ্যা |
|---|---|
| ১৯৭২ | ৫ |
| ১৯৯০ | ৯৪৩ |
| ২০০৮ | ১৯,১৬৩ |
| ২০২০ | ৯৩,৮৯০ |
| ২০২৪ | ১,২২,০৮১ |
| ২০২৫ (সেপ্টেম্বর) | ১,২৮,০০০+ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা দেশের আয়বৈষম্যের গুরুতর সংকেত। যদিও উচ্চবিত্তদের আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সুষম উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র উচ্চ আয়সম্পন্ন গোষ্ঠীর বৃদ্ধি নয়, বরং সাধারণ জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোটিপতি হিসাবের বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নীতি নির্ধারকদের জন্য এটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।