বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁর প্রধান শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা নিয়মিত ওঠানামা করছে। অনিশ্চিত এই পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একটি সূত্র রবিবার রাতে জানায়, চিকিৎসকেরা সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিদেশ পাঠানোর সময় আরও দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর। সূত্র জানায়, রবিবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নতুন কোনো উন্নতি বা অবনতি নেই; পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত।
আরেকটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ড জরুরি বৈঠকে বসে সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করে। বৈঠকের পর শনিবার ও রবিবার তাঁর কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসা-পরিকল্পনা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থার প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তাঁদের মতে, তাঁর ডায়াবেটিসের ওঠানামা, কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা এবং ফুসফুসের অবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এবং লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর থেকে প্রতিদিন হাসপাতালে যাতায়াত করছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব স্থিতিশীল নয়; তবে হঠাৎ কোনো অবনতিও হয়নি। নতুন জটিলতা না দেখা দিলেও মূল রোগগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা উদ্বেগ তৈরি করছে।
মেডিকেল বোর্ডের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা কখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি ও ফুসফুসের অবস্থায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও তা সামগ্রিক ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়; তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।
অনিশ্চিত অবস্থার কারণে তাঁর লন্ডন যাত্রার সম্ভাব্য সময় বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রথমে ৫ ডিসেম্বর যাত্রার কথা জানানো হয়। পরে শুক্রবার সকালে নতুন তারিখ দেওয়া হয় ৭ ডিসেম্বর। রাতে জানানো হয়, সম্ভাব্য যাত্রা পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সেই তারিখও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে।
জিলাইভ২৪/এসএস