ময়ূরীর জন্মদিনে মাইমুনার হৃদয়স্পর্শী শুভেচ্ছা

ঢালিউডের এক সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়িকা ময়ূরী এখন আর রূপালি পর্দার ব্যস্ত জীবনে নেই। অভিনয়জগত থেকে অনেক আগেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক জীবনধারা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এই অভিনেত্রী। সেখানেই ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, পরিবার ও সংসার সামলানোই তার মূল ব্যস্ততা। তবে দূরে থাকলেও বাংলাদেশের দর্শক ও ভক্তদের হৃদয়ে তার উপস্থিতি এখনো স্পষ্ট।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ছিল ময়ূরীর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা, ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণায় ভরে ওঠে তার নাম। সাবেক সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তবে সব শুভেচ্ছার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তার মেয়ে মাইমুনা খানম সায়বার লেখা একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

মাইমুনার লেখায় উঠে আসে একজন মায়ের প্রতি সন্তানের গভীর ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। তিনি লিখেছেন, “আজ তোমার বিশেষ দিন। আমি তোমাকে বলতে চাই, তুমি শুধু আমার মা নও; তুমি সেই মানুষ, যে সব সময় আমার পাশে থেকেছ। তুমি আমাকে শিখিয়েছ শক্ত থাকতে, সদয় হতে, এবং জীবন কঠিন হলেও এগিয়ে যেতে।” এই কয়েকটি বাক্যেই ফুটে ওঠে ময়ূরীর ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও মাতৃত্বের শক্ত ভিত।

মাইমুনা আরও লেখেন, “আমি সবসময় প্রকাশ করতে পারি না, কিন্তু তোমার ত্যাগ, যত্ন ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তুমি আমাকে গড়ে তুলেছ, প্রতিদিন তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি। আমি আশা করি, তোমার জন্মদিনে সেই সুখ পাবে, যা তুমি সবার মাঝে ছড়িয়ে দাও। আজ এবং সর্বদা তুমি সেরাটার যোগ্য। আমার আম্মু হওয়ায় ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি।” এই আবেগময় বার্তায় শুধু একজন তারকা নন, বরং একজন সংগ্রামী মা হিসেবে ময়ূরীর পরিচয় নতুন করে উঠে আসে।

এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বসিত। অনেকে মন্তব্য করেছেন, “এটাই একজন সফল মায়ের সবচেয়ে বড় অর্জন।” আবার কেউ কেউ লিখেছেন, “পর্দার নায়িকা হলেও বাস্তব জীবনে আপনি আরও বড় নায়িকা।” ময়ূরীর ভক্তরা মেয়ের লেখার প্রশংসার পাশাপাশি অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্ব, জীবনবোধ ও সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানান।

এক সময়ের ঢালিউডে ময়ূরী ছিলেন আলোচিত নাম। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও দুই হাজার দশকের শুরুতে একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থাতেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে অভিনয় ছেড়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেন, যা তখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

ময়ূরীর চলচ্চিত্রজীবনের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
চলচ্চিত্রে অভিষেক১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ
পরিচিতিঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা
অভিনীত ধরণবাণিজ্যিক ও পারিবারিক চলচ্চিত্র
অভিনয় ছাড়ার সময়ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে
বর্তমান বসবাসযুক্তরাষ্ট্র
বর্তমান পরিচয়গৃহিণী ও দুই সন্তানের মা

প্রবাসে বসবাস করলেও ময়ূরী নিজেকে সবসময় সন্তানদের মানসিক ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। মেয়ের লেখায় সেই শিক্ষারই প্রতিফলন দেখা যায়। বিনোদনজগতের ঝলমলে আলো থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি যে একটি স্থিতিশীল, মানবিক ও মূল্যবোধনির্ভর পরিবার গড়ে তুলেছেন—মাইমুনার স্ট্যাটাস তারই প্রমাণ।

সবশেষে বলা যায়, জন্মদিনের শুভেচ্ছার ভিড়ে মেয়ের এই আবেগময় বার্তাই ময়ূরীর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হয়ে উঠেছে। পর্দার নায়িকা হিসেবে নয়, বরং একজন মা হিসেবে পাওয়া এই স্বীকৃতি হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের অর্জন।