আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান সহিংস সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। করদোফান রাজ্যের কালোগি এলাকায় সাম্প্রতিক একাধিক হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া অন্তত ৪৬টি শিশু—যা দেশটির মানবিক সংকটকে নতুন করে গভীর করেছে। কালোগি এলাকার নির্বাহী পরিচালক এই তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকার-সমর্থিত সুদান সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)-এর দুটি সামরিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একটি কিন্ডারগার্টেন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ওই হামলার পর আহত শিশু ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় যারা জড়ো হয়েছিলেন, তাদের ওপরও পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। সূত্রগুলোর দাবি, শহরের একটি হাসপাতাল ও একটি সরকারি ভবনেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে, ফলে চিকিৎসা ও জরুরি সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কালোগি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সঠিক হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর থাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক আহতকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর আশঙ্কা, যা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু হত্যা শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন।” তিনি আরও বলেন, “শিশুরা কোনোভাবেই সংঘাতের মূল্য দিতে পারে না বা দেওয়া উচিত নয়।” সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সুদানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সামরিক সংঘর্ষে শিশুদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার শিশু স্কুলে যেতে পারছে না, অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আবার অপুষ্টি ও রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
কালোগির ঘটনায় প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হতাহতের একটি সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| শ্রেণি | আনুমানিক সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিহত | ১০০+ |
| নিহত শিশু | ৪৬ |
| শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ১টি কিন্ডারগার্টেন |
| লক্ষ্যবস্তু স্থাপনা | হাসপাতাল, সরকারি ভবন |
| যোগাযোগ পরিস্থিতি | মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত |
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা গুরুতর অপরাধ। তবুও সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব স্থাপনা বারবার সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতরত পক্ষগুলোকে জবাবদিহির আওতায় না আনলে এমন ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।
এর আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অপুষ্টি ও সহিংসতায় শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা সুদানের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—যাতে তারা জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করে এবং সংঘাত বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়।
সব মিলিয়ে, কালোগির এই মর্মান্তি
