দেশে বীমা করপোরেশন আইনের সংশোধন নিয়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে পুনর্বীমা বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ব্যয়, বিদেশি অর্থায়ন এবং পুনর্বীমা আয়—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদ্যমান আইনে বলা আছে, বিদেশি ঋণ বা গ্যারান্টি যুক্ত কোনো সরকারি প্রকল্প বা সম্পত্তি ১০০ শতাংশ এসবিসির মাধ্যমে আন্ডাররাইট করতে হবে। খসড়া সংশোধনীতে এই বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রস্তাব এসেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক রেটিংপ্রাপ্ত বিদেশি কোম্পানি বড় প্রকল্পের পুনর্বীমা পেতে পারে।
এসবিসি দাবি করে, তারা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম। তাদের মতে, বিদেশি রেটিংয়ের শর্ত আরোপ করা অপ্রয়োজনীয়; বরং এতে বিদেশে প্রিমিয়াম চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
আইডিআরএ খসড়া তৈরি করেছে এবং তা দপ্তরগুলোর মতামত গ্রহণ শেষে পুনরায় সংশোধন চলছে। এছাড়া পুনর্বীমা প্রিমিয়াম বকেয়া, দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া এবং কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা নিয়েও পুরনো বিতর্ক রয়েছে।
শেষ তথ্য অনুযায়ী, বীমা কোম্পানিগুলো এসবিসিকে ১,১২৩ কোটি টাকার প্রিমিয়াম বকেয়া রেখেছে, বিপরীতে এসবিসি তাদের কাছে ৯৩০ কোটি টাকার দাবি বকেয়া রেখেছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অভিযোগ, এসবিসি সময়মতো দাবি পরিশোধ করে না; বিপরীতে এসবিসি বলছে, কোম্পানিগুলো তাদের প্রিমিয়াম দেয় না।
বকেয়া তালিকা
| পক্ষ | বকেয়া পরিমাণ | বছর |
|---|---|---|
| কোম্পানি → এসবিসি | ১,১২৩ কোটি টাকা | ২০২৪ |
| এসবিসি → কোম্পানি | ৯৩০ কোটি টাকা | ২০২৪ |
গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের উপদেষ্টা তারিকুর রহমান বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক পুনর্বীমা করা উচিত নয়, যারা দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতায় ভুগে। তার মতে, পুনর্বীমা উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঈন উদ্দিন বলেন, দেশের বীমা খাত দুর্বল, আস্থা কম। তাই একেবারে উন্মুক্ত করলে এসবিসি আরও সংকটে পড়বে। তিনি মনে করেন, কিছু অংশ বাধ্যতামূলক পুনর্বীমা হিসেবে থাকা উচিত।
