যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার টানা অগ্রসরতা: ভেঙে পড়ছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা, শীতকালেই কি বড় মোড়?

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন কৌশলগত মোড় নিচ্ছে। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে রুশ সেনারা ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছে, যা জেলেনস্কি প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নভেম্বর মাসেই রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ৫০৫ বর্গকিলোমিটার নতুন এলাকা দখল করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ।

রাশিয়ার লক্ষ্য এখন শুধু সামরিক বিস্তার নয়; গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, জ্বালানি এবং সামুদ্রিক রুট নিয়ন্ত্রণ করেও কৌশলগত সুবিধা তৈরি করা। বিশেষ করে লুহানস্ক ও দোনেৎস্কে রাশিয়ার আগ্রাসন যুদ্ধের চিত্র পাল্টে দিচ্ছে। ইউক্রেনের বাহিনী সীমিত অস্ত্র এবং ভারী ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যূহ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রুশ বাহিনীর কৌশল এখন ‘ধীর আগ্রাসন’। অর্থাৎ দ্রুত যুদ্ধ নয়, বরং লাইন ধরে ফ্রন্টলাইন ভেঙে ফেলার কৌশল। দোনেৎস্কের পোকরোভস্ক প্রায় ঘেরাও অবস্থায়, মিরনোহরাদও চার দিক থেকে অবরুদ্ধ। এসব এলাকার পতন হলে ইউক্রেন আরও গভীর বিপর্যয়ে পড়বে, কারণ সেখানে ইউক্রেনের বহু সরবরাহ লাইন ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে।

এদিকে জেলেনস্কি প্রশাসন পশ্চিমা সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। অস্ত্র সরবরাহ ও স্যাংশনের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো দ্বিধায় থাকায় রাশিয়ার সুবিধা আরও বাড়ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই শীতেই যুদ্ধ এমন মোড় নিতে পারে যেখানে ইউক্রেন কূটনীতির ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে বাধ্য হবে।

রাশিয়া তার দখল করা ভূখণ্ডকে ‘নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল’ দাবি করছে এবং কোনো আপস না করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে আলোচনার পথ জটিল হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে— ইউক্রেন কি তার ভূখণ্ড আঁকড়ে ধরে যুদ্ধ চালাবে, নাকি বাড়তি ক্ষয়ক্ষতির মুখে কূটনীতিকে বেছে নেবে?