বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে একটি নতুন সেতুর নামফলক উন্মোচনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয়দের ক্ষোভে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।
নদী পারাপারের প্রধান সংযোগ হিসেবে পরিচিত আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের দাবির ফল। ২০১৪ সালে ‘নাজিরপুর–রামারপোল সৌহার্দ্য সেতু’ নামে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তবে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর এ বছর মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।
এর মাঝেই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখা হয় এবং ৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এই নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধেই স্থানীয়দের বিস্তর ক্ষোভ জমে ওঠে, যার বিস্ফোরণ ঘটে আজকের অনুষ্ঠানে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ডিসি মো. খায়রুল আলম, ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ারসহ পুলিশ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে নাজিরপুর ও রামারপোল গ্রামের বেশ কিছু লোকজন পূর্ব পাশ থেকে মিছিলসহকারে এসে ‘উদ্বোধন মানি না’ স্লোগান দিতে থাকে।
মুহূর্তের মধ্যেই তারা মঞ্চ, চেয়ার, লালগালিচা ও নামফলক ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম, কাচিচর দাখিল মাদ্রাসার সুপার, বলেন, “আসলে মানুষের রাগটা ছিল নাম নিয়ে। যারা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে, তারা চেয়েছিল গ্রামের নামে সৌহার্দ্যের প্রতীক থাকুক। হঠাৎ করে নাম পরিবর্তন করায় তারা ফুঁসে ওঠে।”
অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু অনুষ্ঠান তখন আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাপক ক্ষতির ফলে পুরো আয়োজনে তীব্র হতাশা তৈরি হয়।
মুলাদী থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, “এটি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় কিছু মানুষের আকস্মিক আচরণের ফল। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইউএনওও স্বীকার করেন যে নাম পরিবর্তন নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি ছিল। “আমরা আপত্তিগুলো উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম,” তিনি বলেন। “তবুও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছিল।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়েছে—স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত না করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সর্বোচ্চ পর্যায়েও সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নামকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয় আবেগ, ইতিহাস ও পরিচয়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
সঠিকভাবে যোগাযোগ না হলে ক্ষোভ সঞ্চিত হয়ে এমন বিস্ফোরণ ঘটতেই পারে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ সেতুর পুরোনো নাম পুনর্বহালের দাবিও পুনরায় তুলেছেন। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি শান্ত হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
