ঢাবিতে তোলপাড়! পোষ্য কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীরা যা বললো—প্রশাসনও হতবাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিতে বহুবছর ধরে কার্যকর থাকা পোষ্য কোটা নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আজ শনিবার ‘পোষ্য কোটা বাতিল আন্দোলন, ঢাবি’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তিন ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো এলাকা শিক্ষার্থীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, পোষ্য কোটা নামক বিশেষ সুবিধা মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিপন্থী। তাদের মতে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দেওয়া মানে প্রকৃত প্রতিযোগিতাকে ব্যাহত করা। তাই তারা স্লোগান দেন—‘মেধার সঙ্গে আপস নয়’, ‘পোষ্য কোটা অনৈতিক’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সবার, সুবিধা সবার সমান।’ স্লোগানগুলোর মধ্য দিয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, শিক্ষার্থীরা সমতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়।

আন্দোলনের সংগঠক মো. রাকিব বলেন, “আমরা প্রশাসনকে বহুবার অনুরোধ করেছি, লিখিত আবেদনও দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, আর সেই প্রতিযোগিতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান যে, কোটা নামক ব্যবস্থা বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং করদাতার অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এটি অনৈতিক।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, পোষ্য কোটা বহাল থাকলে কম মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বিশেষ সুবিধায় ভর্তি হয়ে যায়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান ও প্রতিযোগিতার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিলেও কোটার কারণে সুযোগ হারান। ফলে এই কোটা তুলে দেওয়া হলে মেধাবীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই আন্দোলনকে ঘিরে ভিন্ন মত পোষণ করছে। কেউ কেউ বলছে, পোষ্য কোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার অংশ; আবার কেউ কেউ বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা অযৌক্তিক। যদিও এখনো ডাকসু বা প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনানুষ্ঠানিক সূত্র বলছে, পোষ্য কোটা বাতিল করা হলে প্রশাসনিক কাঠামো, নীতিমালার সংশোধন ও প্রযুক্তিগত অনেক বিষয় পুনর্বিন্যাস করতে হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়া করে নেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সময়ক্ষেপণ আর গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তী কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।

শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচির শেষে ঘোষণা দেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন হবে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, পোষ্য কোটা বাতিলের ইস্যুটি আগামী কয়েক সপ্তাহ ঢাবি ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।