ডি কক ১০৬ করেও হারলো দল—ভারতকে থামাতে পারেনি কেনো?

প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, দিনের শেষে ম্যাচ জিতিয়ে দেয় দক্ষতা, পরিকল্পনা এবং ইনিংস গড়ে তোলার মানসিক শক্তি। ভারতের আজকের পারফরম্যান্স ছিল তার জীবন্ত উদাহরণ। দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে যে ভরসা পেয়েছিল, তা ছিল কুইন্টন ডি ককের ১০৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। কিন্তু সম্পূর্ণ দলীয় সংগ্রহ বলতে গেলে কেবল তিনিই ছিলেন লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর একার লড়াইও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।

দলে কেউই সেভাবে সাপোর্ট দিতে পারেননি। ভারতের পেসার প্রসিধ কৃষ্ণার লাইন ও লেংথ পরিকল্পিত বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডারকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। তিনি ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসের ছন্দ নষ্ট করে দেন। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয় ২৭০ রানে—ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষের কাছে মোটামুটি, কিন্তু ভারতের মতো ব্যাটিং গভীরতার দলের বিপক্ষে তা যথেষ্ট নয়।

ভারতের ইনিংস শুরু হয় ধীরস্থিরভাবে। রোহিত শর্মা ও জয়সোয়াল শুরুতে বল বিচার করার সময় নেন। কিন্তু সেটে হওয়ার পর দু’জনই নিজেদের মতো করে খেলতে শুরু করেন। রোহিত বরাবরের মতোই কম্পোজড ব্যাটিং করতে করতে ৭৫ রানে আউট হন। আউট হওয়ার আগে তিনি ওপেনিং জুটিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যান, যেখানে ভারতের পরাজয়ের কোনো আশঙ্কাই ছিল না।

জয়সোয়াল শুরুতে সতর্ক থাকলেও পরবর্তীতে এমনভাবে নিজেকে বদলে ফেলেন, যেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছেন। চার ম্যাচের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরি—এটি তাঁর দক্ষতার পরিমাপক। টেকনিক্যালি তিনি ছিলেন নিখুঁত, শট সিলেকশনে ছিলেন বিচক্ষণ, এবং দারুণভাবে পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন।

কোহলি আজ হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরি করতে পারতেন—দর্শকরা এমনই আশা করছিলেন। কিন্তু ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে আগ্রাসী হতে হয়নি। তাঁর ৬৫* রানের ইনিংস ছিল স্থিরতার, অভিজ্ঞতার এবং দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। তবে তিনি যে ৩০২ রানের সিরিজ–স্কোর করলেন—এটি তাঁর নিজেরই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা।

শেষ পর্যন্ত কোহলি ও জয়সোয়ালের ১১৬ রানের অপরাজিত জুটিতে ভারত ৯ উইকেটের দাপুটে জয়ে মাঠ ছাড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ব্যর্থতা, ভারতের টপ অর্ডারের আধিপত্য এবং কোহলির অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই ম্যাচটিকে একতরফা করে দেয়।