বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় আলোচনার জায়গা সবসময় বিপিএল। আর বিপিএলে সাফল্যের প্রতীক হয়ে ওঠা নামগুলোর মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে চারবার শিরোপা জেতানোর পর তিনি হয়ে উঠেছিলেন টুর্নামেন্টটির সবচেয়ে প্রভাবশালী কোচ। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাঁর পদচারণা ভিন্ন সমতলে—এখন তিনি জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ, এবং দায়িত্ব আরও বহুমাত্রিক।
বিপিএল আবার শুরু হবে ডিসেম্বরের ২৬ তারিখে। কিন্তু এই টুর্নামেন্টকে কি তিনি মিস করেন? তাঁর সরল উত্তর,
“স্বাভাবিকভাবে কোনো কিছু মিস করি না।”
এ মন্তব্য দেখে মনে হতে পারে তিনি বিপিএল থেকে মানসিকভাবে সরে এসেছেন। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এটি আসলে তাঁর দায়িত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাতীয় দলের ব্যাটিং স্কিল উন্নয়নে তিনি এখন মনোযোগী। টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংয়েই বেশি কাজ হচ্ছে—কারণ গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ এখানে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা দেখিয়েছে। ভুল শট সিলেকশন, শট প্লেসমেন্টে ঘাটতি, গ্যাপ বুঝে রান তোলার অভাব—এসবই সালাহউদ্দীনের নজরে।
৬–১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে বিশেষ ক্যাম্প চলছে, তার প্রত্যেকটি সেশনই হচ্ছে কৌশলগত ব্যাটিং অনুশীলন।
তিনি জানান,
“টি-টোয়েন্টিতে আমাদের সমস্যা হলো ভালো শটও অনেক সময় ক্যাচ হয়। শট দিক বাছাই সঠিক হচ্ছে না।”
এ ছাড়াও কম ঝুঁকিতে রান বাড়ানো, সিঙ্গেল-ডাবল বৃদ্ধি, বলের গতি কাজে লাগানো—এসব বিষয়েও চলছে কাজ। ব্যাটসম্যানদের মানসিক কাঠামো শক্তিশালী করাও ক্যাম্পের লক্ষ্য।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে—৩০ ম্যাচে ১৫ জয়। সিরিজ ধরে পরিকল্পনা নিয়ে এগুনোর সাফল্যই এটি। তবুও সালাহউদ্দীনের মতে, এখনও অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছে দল। বিশেষ করে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে রান তোলা, ম্যাচ ফিনিশিং, এবং ইনিংস গড়ার কৌশলে আরও কাজ প্রয়োজন।
বিপিএলকে মিস করেন কি না—এ প্রশ্ন তাই তাঁর কাছে গুরুত্বহীন। কারণ এখন তিনি কাজ করছেন এমন একটি জায়গায়, যেখানে উন্নতি হলে শুধু একটি দলের নয়, পুরো দেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে। বিপিএল তাঁর কাছে অর্জন, জাতীয় দল তাঁর কাছে দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ।
