বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীরা আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার) ব্যবস্থার সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানি নিশ্চিতের দাবিতে তারা এবার সরাসরি বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন। ঘোষণামতে, রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। ওই কর্মসূচিতে রাজধানীর পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এনইআইআর ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোতে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ নভেম্বর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর কারওয়ান বাজার–পান্থপথ এলাকায় মানববন্ধন করেন বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা। সেদিন অনেক দোকান বন্ধ রেখে তারা রাজপথে নেমে আসেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা রাষ্ট্রবিরোধী নন, তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত চান না যা লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পথে বসাবে।
মোবাইল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর কার্যকর হলে মোবাইল ফোন আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট লাভবান হবে। বিপরীতে, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা নানামুখী বিধিনিষেধ, বাড়তি কর ও জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাদের ভাষায়, “একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের মাধ্যমে ফোন নিয়ন্ত্রণ করা হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবেন না।”
তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এনইআইআর চালু হলে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কারণ, আমদানি ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর ও ফি যোগ হবে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এনইআইআর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিবন্ধিত, চুরি হওয়া বা অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এনইআইআর কী এবং কেন তা নিয়ে বিতর্ক—এই বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| এনইআইআর কী | মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা |
| সরকারের লক্ষ্য | চুরি ও অবৈধ মোবাইল ব্যবহার বন্ধ, নিরাপত্তা জোরদার |
| কার্যকর হওয়ার তারিখ | ১৬ ডিসেম্বর |
| ব্যবসায়ীদের আপত্তি | সিন্ডিকেট সৃষ্টি, বাড়তি কর, ব্যবসা সংকট |
| সম্ভাব্য প্রভাব | মোবাইলের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ক্ষতি |
মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা এনইআইআর পুরোপুরি বাতিল চান না; বরং এর সংস্কার চান। তাদের দাবি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও সহনীয় কাঠামো তৈরি করা হোক। একই সঙ্গে মোবাইল আমদানিতে উন্মুক্ত বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
