রাশিয়া নিশ্চিত করল কুণ্ডনকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতা

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে এসে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুণ্ডনকুলমকে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার অঙ্গীকার রাশিয়া এখনও বহন করছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুণ্ডনকুলমে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে মোট ছয়টি রিঅ্যাক্টর স্থাপিত হবে, যা সম্পূর্ণ হলে ৬,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রদান করবে।

নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, “কুণ্ডনকুলম পারমাণবিক প্রকল্প ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছয়টি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। বাকি চারটির নির্মাণ কাজ চলমান, এবং সম্পূর্ণ কার্যকর হলে এটি ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।”

পুতিন আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম ইতোমধ্যেই তৃতীয় রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করেছে। এই জ্বালানি রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত হয়ে কার্গো বিমানের মাধ্যমে ভারত পাঠানো হয়েছে। ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় ও চতুর্থ রিঅ্যাক্টরের পুরো কার্যকালজুড়ে রাশিয়া মোট সাতটি ফ্লাইটের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করবে।

পুতিন আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে ছোট আকারের স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিকিৎসা ও কৃষিখাতে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তিনি রাশিয়ার নিরবচ্ছিন্ন তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ভারত এই বছরের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০৭০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমান সক্ষমতার প্রায় দশ গুণ। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট আকারের রিঅ্যাক্টর ও স্মল মডুলার ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিচের টেবিলে কুণ্ডনকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কিত প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

রিঅ্যাক্টর সংখ্যাবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাস্থিতিজ্বালানি সরবরাহ তথ্যলক্ষ্য কার্যকাল
66,000 মেগাওয়াট2 চালু, 4 নির্মাণাধীনতৃতীয় ও চতুর্থ রিঅ্যাক্টরের জন্য রাশিয়া সরবরাহ করবেসম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন পর্যন্ত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুণ্ডনকুলম প্রকল্প ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে। প্রকল্পটি চালু হলে তামিলনাড়ু ও আশেপাশের অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এভাবে, কুণ্ডনকুলম পারমাণবিক কেন্দ্র কেবল ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করবে না, বরং পারমাণবিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।