রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ভারতের সরকারি সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে ছয়টি অনন্য এবং ঐতিহ্যবাহী উপহার গ্রহণ করেছেন। এই উপহারগুলো শুধুমাত্র দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক নয়, বরং ভারতের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও নিদর্শন। উপহারগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রদেশের সুপরিচিত ও ঐতিহ্যমণ্ডিত পণ্য, যা ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
পুতিন ভারতের বার্ষিক ভারত–রাশিয়া সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পৌঁছান। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে আনুষ্ঠানিক লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান।
উপহারের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হলো ভগবদগীতার রাশিয়ান সংস্করণ, যা প্রধানমন্ত্রী মোদি উপহার দেন। এই ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় জ্ঞান, দর্শন ও ঐতিহ্যের প্রতীক তুলে ধরেন। এছাড়াও, উপহার তালিকায় রয়েছে মুর্শিদাবাদের কারুকাজ করা রুপোর চা–সেট, যার মধ্যে কেটলি, পেয়ালা এবং ছোট পাত্র অন্তর্ভুক্ত। পশ্চিমবঙ্গের এই কারুকাজী চা–সেট ভারতীয় শিল্প ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ।
উপহারের অন্যান্য আইটেমের মধ্যে রয়েছে:
মহারাষ্ট্রের তৈরি রুপোর ঘোড়ার নকশা,
উত্তরপ্রদেশের আগরায় নির্মিত মার্বেল দাবার বোর্ড,
আসামের সুপরিচিত চা,
কাশ্মীরের উঁচুমানের জাফরান।
নিম্নে উপহারগুলোর বিস্তারিত তালিকা টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | উপহার | উৎপাদন প্রদেশ/স্থান | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ১ | ভগবদগীতা (রাশিয়ান সংস্করণ) | – | ভারতীয় জ্ঞান ও দর্শনের প্রতীক |
| ২ | মুর্শিদাবাদের রুপোর চা–সেট | পশ্চিমবঙ্গ | কারুকাজ করা কেটলি, পেয়ালা ও ছোট পাত্র |
| ৩ | রুপোর ঘোড়ার নকশা | মহারাষ্ট্র | ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের নিদর্শন |
| ৪ | মার্বেল দাবার বোর্ড | উত্তরপ্রদেশ, আগরা | মার্বেলের শৈল্পিক নকশা |
| ৫ | চা | আসাম | সুপরিচিত ভারতীয় চা |
| ৬ | জাফরান | কাশ্মীর | উচ্চমানের ভারতীয় মসলার প্রতিনিধিত্ব |
গত কয়েক বছরে ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক বিশেষভাবে সুদৃঢ় হয়েছে। বিশেষত, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশ শতাংশ শুল্ক আরোপের মধ্যেও ভারত নীতি পরিবর্তন করেনি। দিল্লিতে অবস্থানকালে পুতিনও এই অবস্থানকে সমর্থন জানান।
এই সফর এবং উপহারের আদান–প্রদান কেবলমাত্র কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
