ডায়াবেটিস এখন বাংলাদেশের অন্যতম নীরব মহামারি। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, আর চিকিৎসকরা বলছেন—জীবনযাপনে পরিবর্তন ছাড়া এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের একটি বড় প্রশ্ন– সুগার কমাতে কি একটানা ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি, নাকি সময় পেলেই একটু একটু করে হাঁটলেই চলবে?
Table of Contents
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকরী উপায়। তবে শর্ত হলো—এই ৩০ মিনিট একটানা না হলেও চলে। তারা বলছেন, “দিনে যেকোনো সময়, পর্যায়ক্রমে হাঁটলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে।”
অর্থাৎ, কেউ চাইলে সকাল-বিকেল বা বিরতি দিয়ে ১০ মিনিট করে তিনবার হাঁটতে পারেন। এতে শরীর ইনসুলিনকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং রক্তে সুগার কমে।
একটানা হাঁটা কি ভালো?
অনেকের ধারণা, একটানা ৩০ মিনিট হাঁটলে বেশি উপকার হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
একটানা হাঁটা ভালো, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়
দিনের মধ্যে সময় পেলেই হাঁটা—এটিও সমান কার্যকর
যাদের শারীরিক সক্ষমতা আছে, তারা অবশ্যই একটানা হাঁটা অব্যাহত রাখতে পারেন
এতে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সুগারেও দ্রুত প্রভাব পড়ে।
হাঁটার ধরন: ধীর গতিতে নয়, জোরে হাঁটা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিক রোগীরা শুধু ধীরে-সুস্থে হাঁটলে তেমন উপকার হয় না।
❖ জোরে হাঁটতে হবে,
❖ শরীর গরম হবে এমন গতি বজায় রাখতে হবে,
❖ হৃদস্পন্দন কিছুটা বাড়লেই হাঁটার ফল পাওয়া যাবে।
এটি শরীরকে বেশি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে, পেশিতে গ্লুকোজ ব্যবহার বাড়ায় এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে।
কখন হাঁটবেন?
হাঁটার জন্য সকাল-বিকেলের আলাদা কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সকাল
বিকেল
দুপুর
বা রাত
—সময় যাই হোক, যখন সুবিধা হবে তখনই হাঁটা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সময়ের চেয়ে হাঁটাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
ডায়াবেটিসের উপসর্গগুলো স্মরণীয়
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের কিছু উপসর্গ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়—
অতিরিক্ত পিপাসা
ঘন ঘন প্রস্রাব
দ্রুত ক্লান্তি
ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
ক্ষত সারােতে সময় লাগা
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া
এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে।
ডায়েট নিয়ন্ত্রণ: হাঁটার মতোই গুরুত্বপূর্ণ
শুধু হাঁটা দিয়ে সুগার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে না। প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞরা যে খাদ্যগুলো খেতে বলেন:
লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত শাকসবজি
মাছ, ডিম
মাংস (নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে)
ফাইবারযুক্ত খাবার
যা এড়িয়ে চলতে হবে:
মিষ্টি
কোল্ড ড্রিংক
চকোলেট
ফাস্ট ফুড
প্রসেসড ফুড
সঙ্গে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং রুটিন চেক-আপ জরুরি।
সর্বশেষ কথা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু একটানা হাঁটাই যে একমাত্র পথ—এটা ভুল ধারণা। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে হাঁটলেও সুগার নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবেই রোজ হাঁটুন, সক্রিয় থাকুন—নিজেকে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখুন।
