আমীর খসরুর স্পষ্ট বার্তা

আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চললেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন তো নির্বাচনের জায়গায়ই হবে।”

তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা রাখতে চায় এবং খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো ‘রাজনৈতিক ব্যাখ্যা’ তৈরি হোক, তা তারা চান না। খসরু বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করেছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি নির্বাচন চেয়েছেনও তিনি নিজেই।”

🔶 খালেদা জিয়ার অসুস্থতা: রাজনৈতিক না চিকিৎসাগত বিষয়?

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে খালেদা জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি একটি মানবিক ও চিকিৎসাগত বিষয়, রাজনৈতিক নয়। আমীর খসরু বলেন, “উনার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের অনুমতি পেলেই তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে।”

এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দলীয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। খসরুর বক্তব্যে বিষয়টির একটি নতুন স্বচ্ছতা তৈরি হয়।

🔶 নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে মন্তব্য আসছিল। কিন্তু খসরু মনে করেন, এ ধরনের আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,
“নির্বাচন পেছানোর প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে? উনি যে অবস্থায় থাকুক, তিনি চাইবেন দেশের মানুষ ভোট দিক, নির্বাচিত সরকার গঠন করুক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক।”

তার বক্তব্যে উঠে আসে দুটি মূল দৃষ্টিভঙ্গি:

  1. গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্বাচন অপরিহার্য।

  2. খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কখনোই নির্বাচন থামানোর কারণ হতে পারে না।

🔶 বেগম জিয়ার ‘গণতন্ত্রমুখী অবস্থান’ তুলে ধরা

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন। সামরিক শাসন, একদলীয় প্রবণতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন বলেই দেশ বহুবার গণতন্ত্রের দিকে ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন,
“যদি সবচেয়ে বেশি কেউ নির্বাচন চান, সেটা বেগম জিয়াই। কারণ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠনের অধিকার পুনরুদ্ধার করা তার আজীবনের দাবি।”

🔶 রাজনৈতিক বার্তা: বিএনপি নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে নেই

খসরুর এ বক্তব্য পর্যবেক্ষকদের চোখে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।
এটি দেখায়—

  • বিএনপি নির্বাচনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে না,

  • বরং অংশগ্রহণের আগে ‘ন্যূনতম রাজনৈতিক পরিবেশ’ চায়,

  • খালেদা জিয়াকে ‘রাজনৈতিক অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।

🔶 উপসংহার

সভা শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, আমীর খসরুর বক্তব্য শুধু দলের অবস্থান শক্ত করেই না, বরং এ সময়ের বিভ্রান্তি এবং গুজব দূর করতেও ভূমিকা রাখে। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বড় ইস্যু হয়ে উঠলেও বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিল—
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিজের গতিতে চলবে, নির্বাচনও নিজের নির্ধারিত গতিতে চলবে।