আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকলেও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ বিষয়ে সরকার নিজেদের অবস্থান নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা করছে। মাগুরায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি যাবে না—এটি সম্পূর্ণ তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।”
তার এ মন্তব্যে ইঙ্গিত মেলে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয় পার্টিকে কোনো ‘চাপ’ দিচ্ছে না সরকার। যদিও তিনি দলটির অতীত ভূমিকা নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
তার দাবি, জাতীয় পার্টি অতীতে স্বৈরাচারী সরকারকে সহযোগিতা করেছে এবং বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের অনিয়মকে আড়াল করতে সহায়তা করেছে। প্রেস সচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ যখনই রাজনৈতিক বা নৈতিক সাপোর্টের সঙ্কটে পড়েছে, জাতীয় পার্টি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।” এভাবে তিনি দলটির অতীত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান কীভাবে মূল্যায়িত হবে সে বিষয়েও মন্তব্য করেন।
নির্বাচন বিষয়ে তিনি জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং এ প্রক্রিয়া ঠেকানোর ক্ষমতা কোনো পক্ষের নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং সরকার চাইছে একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই; এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এ মন্তব্য বিএনপির মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে, কারণ এর আগের বিভিন্ন বক্তব্যে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ছিল।
‘মাইনাস ফোর’ ইস্যুতে তিনি পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা ছিল না। যারা এই বিষয়টি প্রচার করছে, তারা অতীতেও স্বৈরাচারী শক্তির সহযোগী ছিলেন।
এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পুনরুল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এগুলোর প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে; এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি।
এর আগে তিনি মাগুরায় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন। টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নেয় এবং স্থানীয় তরুণদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে শৃঙ্খল ও ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
