নিউজিল্যান্ড: ফ্যাবার্জের অমূল্য লকেটটি চুরি করে গিলে ফেলার পর নিউজিল্যান্ড পুলিশের মাধ্যমে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ময়ের বিষয়, কোনো চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়াই ওই ব্যক্তির পেট থেকে লকেটটি বের করা সম্ভব হয়েছে। এটি পুলিশ এবং জুয়েলারি বিশেষজ্ঞদের জন্যও চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে অকল্যান্ডের কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত প্যাট্রিজ জুয়েলার্স দোকান থেকে লকেটটি চুরি করে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। দোকানের কর্মীরা তাকে নজরে আনতে পারার পর দ্রুত পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।
ফ্যাবার্জের দেওয়া তথ্যানুসারে, চুরির এই লকেটে রয়েছে ৬০টি সাদা হীরা এবং ১৫টি নীলকান্তমণি। লকেটটি খুললে দেখা যায়, এটি ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি ক্ষুদ্র অক্টোপাসের প্রতিকৃতি ধারণ করে। এই লকেটের নাম ‘অক্টোপাসি এগ’ এবং এটি ১৯৮৩ সালের জনপ্রিয় জেমস বন্ড সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়। ফ্যাবার্জের মূল্যায়নে এর বাজারমূল্য প্রায় ১৯,৩০০ মার্কিন ডলার। প্যাট্রিজ জুয়েলার্স জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া লকেটটি পুনরায় ফ্যাবার্জের কাছে পাঠানো হবে।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১২ নভেম্বর একই দোকান থেকে একটি আইপ্যাড চুরি করার ঘটনা এবং এক বাড়ি থেকে বিড়ালের বালু ও পিসুনাশকসহ মোট ১০০ নিউজিল্যান্ড ডলারের পণ্য চুরির অভিযোগ। পুলিশ এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে রেখেছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করছে।
ফ্যাবার্জ একটি বিশ্বখ্যাত জুয়েলারি ব্র্যান্ড, যা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রত্নখচিত ডিম আকৃতির শিল্পকর্ম তৈরি করে আসছে। ব্র্যান্ডের প্রতিটি কাজের মধ্যে সূক্ষ্ম নকশা, ব্যতিক্রমী কৌশল এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবহার স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই ঘটনার কারণে ফ্যাবার্জের মূল্যবান সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইমেজ আরও সুরক্ষিত রাখার গুরুত্ব বেড়ে গেছে।
নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, এমন চুরির ঘটনা খুবই বিরল। সাধারণত জুয়েলারি চুরি ও লকেট উদ্ধার প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া হয়। তবে 이번 ঘটনায় লকেটটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দক্ষতার পরিচায়ক।
পুলিশ ও দোকান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবান জুয়েলারি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা মূল্যবান জুয়েলারি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেন।
