বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত লালদিয়া–পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা বাতিল এবং নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আজ যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পথে কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়।
দুপুরে কাকরাইলে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে বেশ কয়েকজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতরা হলেন কাজী রুহুল আমিন, জহুর লাল রায়, অন্ত অবিন্দম, ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন, রাসেল আহমেদ, শোয়েইব আহমেদ আসিফ, সীমা দত্ত, শাহিনুর আক্তার সুমি, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, স্বাকাই ইসলাম, রাকিব আহমেদ ও প্রিজম ফকির।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশ জাসদ ও জাতীয় গণফ্রন্টের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে মিছিলটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে লাঠিপেটা হয়।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। তবুও তাঁরা যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কি হয়, তবে এটি লাঠিপেটা বলা যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি, সিপিবি নেতা রুহুল আমিনসহ কয়েকজন আহত হন।
পরে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বেলা ১টা ১০ মিনিটে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল ত্যাগ করেন এবং প্রেসক্লাবে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
জিলাইভ২৪/এসএস
