নজরুলসংগীতের আদি সুর ও স্বরলিপি যিনি নিবিড়ভাবে ধরে রেখেছেন, যিনি ছিলেন সাধনা–নিষ্ঠ সংগীতপুরুষ—তিনি প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন। একজন গায়ক ছাড়াও তিনি ছিলেন নজরুলগানের ব্যাকরণ, সুরচেতনা ও রসের নিবেদিত প্রচারক।
নজরুলের ইসলামী গান পরিবেশনায় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে ‘দুর্দিনে মোরে রেখেছো দয়াময়’, ‘যেদিন রচনা হল মক্কা নগরী’ ও ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’—গানগুলো নবজাগরণের আবহ তৈরি করত। ছয়টি নজরুলসংগীত ও বারোটি ইসলামী গানের অ্যালবাম তাঁর শিল্প–অর্জনের মূল্যবান সম্পদ।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
জন্ম ও শৈশব
১৯৩৫ সালের ৪ ডিসেম্বর নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। চম্পা নদীর অনতিদূরের সেই পরিবেশেই শুরু হয় তাঁর সংগীত–সাধনার প্রথম সুর। দেশ বিভাগের সময়ে তিনি পরিবারসহ কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় চলে আসেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
সাংগীতিক সাধনার বিস্তৃতি
গায়ক হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও স্বরলিপিকার। তিনি কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের সব শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে প্রশিক্ষক ও পরীক্ষক হিসেবে। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
নজরুল গবেষণায় তাঁর অবদানও অনন্য। নজরুল ইনস্টিটিউটের আদি সুরভিত্তিক স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নজরুলের মূল সুর সংরক্ষণে তাঁর কাজ আজও গবেষকদের পথ দেখায়।
শেষ অধ্যায়
২০১৯ সালের ২২ মে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে নজরুলসংগীত হারায় এক নিবেদিত অভিভাবক, আর বাংলা সংগীত হারায় এক প্রজ্জ্বলিত আলো।
শ্রদ্ধাঞ্জলি
খালিদ হোসেন ছিলেন সুর–সাধনায় নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগীতসাধক। তাঁর কণ্ঠে নজরুলের গান কখনো শান্ত নদীর মতো স্নিগ্ধ, কখনো ধর্মীয় আবেগের ঢেউয়ে শক্তিমান হয়ে উঠত। বাংলা সংগীত, বিশেষত নজরুলসংগীত, তাঁর প্রতি আজও শ্রদ্ধায় নত।
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুন এই মহান শিল্পী।
তাঁর আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা।
জিলাইভ২৪/এসএস
