‘র‍্যাঙ্কিংয়ে ঝড় তুললেন মুস্তাফিজ-ইমন, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ পেল বড় সুখবর’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই স্থিতিশীল পারফর্মার খুঁজে ফিরেছে। খেলার এই দ্রুত সংস্করণে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস ছাড়া সামনে এগোনোও প্রায় অসম্ভব। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্যশেষ হওয়া সিরিজে দুই বাংলাদেশি তারকা যেন নতুন করে আশার আলো দেখালেন। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দলের সাফল্যের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই উইকেটশূন্য ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু উইকেট না পেলেও কাটার স্পেশালিস্টের বোলিং ছিল অত্যন্ত ধারালো। ডেথ ওভারগুলোতে তার নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ এবং ভ্যারিয়েশনের সামনে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা বারবার বিপদে পড়েছেন। তার এমন প্রভাবশালী বোলিংয়ের প্রতিফলন এবার দেখা গেল আইসিসির সাপ্তাহিক টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিং আপডেটে। দু’ধাপ এগিয়ে বোলারদের তালিকার অষ্টম স্থানে উঠে এসেছেন বাঁহাতি এই পেসার।

এদিকে ব্যাটারদের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক পারভেজ হোসেন ইমন। তরুণ এই ব্যাটারের অসাধারণ ছন্দ পুরো সিরিজ জুড়েই দর্শকদের নজর কেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক স্ট্রোক ও পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়ে তার উন্নতি ছিল অবশ্যম্ভাবী। র‌্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ২১ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি ব্যাটারদের তালিকায় অনেক ওপরে অবস্থান করছেন।

এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট পুরো সিরিজ জুড়ে ছিল শৃঙ্খলিত। শেখ মেহেদি হাসান দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেট ও তৃতীয় ম্যাচে একটি উইকেট নিয়ে তিন ধাপ এগিয়ে এখন বোলারদের তালিকার ১৪ নম্বরে। তার সুনির্দিষ্ট লাইন-লেংথ, নতুন ভ্যারিয়েশন এবং উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য দলের জন্য বাড়তি স্বস্তি এনেছে।

এছাড়া লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও এগিয়েছেন পাঁচ ধাপ। প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে তিনি এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে। তরুণ রিশাদের গুগলি, টপস্পিন আর ফ্লাইটে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা বারবার পরাস্ত হয়েছেন।

বিস্ময় জাগানো অগ্রগতি হয়েছে নাসুম আহমেদেরও। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তিনি উইকেটশূন্য থাকলেও তার ইকোনমি রেট ছিল অনুকরণীয়। তাই র‌্যাঙ্কিং আপডেটে পাঁচ ধাপ এগিয়ে তিনি উঠে এসেছেন ২৫ নম্বরে।

বাংলাদেশের পেস বিভাগে নির্ভরতা এনে দিচ্ছেন তানজিম হাসান সাকিব। প্রথম দুই ম্যাচে তিন উইকেট তুলে তিনি দুই ধাপ এগিয়ে এখন ৩৫ নম্বরে। দারুণ গতি ও সুইংয়ের ওপর ভর করে নিজেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তার সামনে খোলা।

র‌্যাঙ্কিংয়ের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে দল হিসেবে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে। তরুণদের বিকাশ, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা এবং দলগত চেতনার সমন্বয় দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজ ও ইমনের উত্থান বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারে।

আইসিসির এই নতুন র‌্যাঙ্কিং যেন বাংলাদেশ দলের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। সামনে বড় টুর্নামেন্টগুলোয় এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে—এটা বিশ্বাস করাই যায়।