সেন্ট জেমস পার্কে টানটান নাটক: সমর্থকদের স্লোগান থামিয়ে দিল রোমেরোর অ্যাক্রোবেটিক গোল

সেন্ট জেমস পার্কে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচটি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য ছিল আরও একটি ‘হতে পারত’র গল্প। বহুদিন ধরেই এই মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পার্স ভোগান্তির শিকার হলেও মঙ্গলবারের ম্যাচে ঘটল ঠিক বিপরীত দৃশ্য। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে যখন ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল, তখন গ্যালারি উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে। কণ্ঠে ভেসে আসে পরিচিত স্লোগান—“ইটস হ্যাপেনিং অ্যাগেইন!” অর্থাৎ টটেনহ্যামের আবারও দুঃসময় ঘনিয়ে এসেছে।

কিন্তু ফুটবল যেমন অনিশ্চয়তার খেলা, তেমনই অনুভূতির রোলার কোস্টার। অতিরিক্ত সময়ের ৯৫তম মিনিটে স্পার্স অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো যে দুরন্ত ওভারহেড কিকে গোল করলেন, তা শুধু ম্যাচ নয়, বদলে দিল পুরো পরিবেশ। এক মুহূর্ত আগে যেখানে গ্যালারি আনন্দে ভাসছিল, দেখলেই মনে হতো নিউক্যাসল এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলেছে—সেই উল্লাস মুহূর্তেই পরিণত হলো হতাশার দীর্ঘশ্বাসে।

এই মৌসুমে নিউক্যাসলের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে ম্যাচের শেষ দিকের মনোযোগ ধরে রাখা। লিভারপুলের বিপক্ষে হোক, আর্সেনালের বিপক্ষে হোক কিংবা ওয়েস্ট হ্যামের মাঠে—শেষ মুহূর্তের গোলই তাদের পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। নতুন পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ—আগে থেকে এগিয়ে থাকা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে নিউক্যাসল। এই সংখ্যা তাদের পুরো মৌসুমের গতি ও মানসিক দৃঢ়তার বড় দুর্বলতাই প্রকাশ করে।

ম্যানেজার এডি হাওও স্বীকার করেন এই ব্যর্থতা একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা। তাঁর মতে, “এটা একধরনের অদ্ভুত চক্র। আমরা ঐতিহাসিকভাবে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ধরে রাখার দলে ছিলাম। কিন্তু এখন যেন সবকিছু উল্টো চলছে।”

হাওয়ের মন্তব্যে বোঝা যায়, দলের আত্মবিশ্বাসই আসলে বড় সমস্যায় রয়েছে। সুযোগ সৃষ্টি করলেও শেষ ১০–১৫ মিনিটে তারা ম্যাচ কন্ট্রোল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। মাঝমাঠে বল ধরে রাখার ক্ষমতা কমছে, ডিফেন্ডাররা চাপ সামলাতে গড়বড় করছে, আর ফরোয়ার্ড লাইনে যথেষ্ট শীতল মাথার অভাব দেখা যাচ্ছে।

যদি নিউক্যাসল চারটি ম্যাচে (টটেনহ্যাম, ওয়েস্ট হ্যাম, ব্রেন্টফোর্ড, আর্সেনাল) লিড ধরে রাখতে পারত, তাহলে আজ তারা লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকত। এখন তারা পড়ে আছে ১৩তম স্থানে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে বিশাল ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

এই ম্যাচের পর আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউক্যাসলের মৌসুম এখন বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে। যদি এভাবে পয়েন্ট হারানো চলতেই থাকে, তাহলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার টিকিটও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে, যা ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ স্কোয়াড গঠনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।