ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৬৫ জন রোগী

দেশজুড়ে এডিস প্রজাতির মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৫ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে চলমান পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকলেও দেশের প্রায় সব বিভাগেই নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং নগর এলাকায় অপরিকল্পিত পানি জমে থাকা এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা (গত ২৪ ঘণ্টা)

বিভাগ/এলাকাভর্তি রোগীর সংখ্যা
বরিশাল বিভাগ৫১ জন
চট্টগ্রাম বিভাগ৮২ জন
ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে)৯৫ জন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন১২৭ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন৮৮ জন
খুলনা বিভাগ৪৩ জন
ময়মনসিংহ বিভাগ৪৫ জন
রাজশাহী বিভাগ৩০ জন
রংপুর বিভাগ৩ জন
সিলেট বিভাগ১ জন
মোট৫৬৫ জন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট ২১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা সারাদেশের মোট ভর্তির একটি বড় অংশ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে এডিস মশার বিস্তার বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় সংক্রমণের হারও তুলনামূলক উঁচু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, একই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭৮ জন রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ১৯৬ জনে। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।

তবে সামগ্রিক চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫ হাজার ৫৭৭ জন রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মৃত্যুর বড় অংশই হয়েছে ডেঙ্গুর জটিল রূপ—ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে, যেখানে সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।