সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্ম অবমাননার নামে হামলার সংখ্যা ৭৩

হিউম্যান রাইটস সেন্টার ফর বাংলাদেশ মোনিটরিং (এইচআরসিবিএম) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৩টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টির মামলা হয়েছে, পাঁচটি ঘটনায় মামলা হয়নি, এবং বাকি ২৩টির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী, নারী এবং বৃদ্ধদের ওপর এই ধরনের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার দাকোপ থানার ঘটনা এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ২৩ অক্টোবর পূর্বায়ন মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, অথচ মূলত ফেসবুকে দেবী কালী নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন আবদুর রহমান। পূর্বায়ন জবাব দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও কারাগারে। এই ঘটনা ভুক্তভোগীদের প্রতি সামাজিক ও আইনি অবিচারের স্পষ্ট প্রতিফলন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সংকটও রিপোর্টে উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যশোরের অভয়নগরে শান্তি রানী ভদ্রের জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। শান্তি রানী একজন বৃদ্ধ বিধবা। থানায় অভিযোগ সত্ত্বেও এজাহার দায়ের হয়নি। এই ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি আরও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। ২৭ নভেম্বর, এক দশম শ্রেণির সংখ্যালঘু ছাত্রীকে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখনও সে উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনায় প্রতিফলিত হচ্ছে দেশের সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতা।

আইনজীবী লাকী বাছাড় জানিয়েছেন, ধর্ম অবমাননার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। শুধুমাত্র সরাসরি অভিযোগ ও প্রতিনিধি মাধ্যমে পাওয়া তথ্যই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সামাজিক সংহতি ও মানুষের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় উদ্বিগ্ন। এইচআরসিবিএমের প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের অপব্যবহার বন্ধে আইন সংস্কার এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।