ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ার শেষের পথে—এ কথা তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ৪০ বছর বয়স, পরের বিশ্বকাপ হবে শেষ, এবং এক–দুই বছরের মধ্যে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—রোনালদোর মতো প্রতিযোগিতামুখী, আত্মনিবেদিত এবং ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ খুঁজে বেড়ানো একজন ব্যক্তি অবসরের পর কী করবেন?
ফুটবলের বাইরে তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিশাল; হোটেল, ফ্যাশন, বিনোদন, প্রযুক্তি—সবখানেই তার উপস্থিতি। কিন্তু ব্যবসা তাঁর আগ্রহের জায়গা হলেও, তাঁর মূল পরিচয় একজন অ্যাথলেট। তাই নতুন কোনো খেলাধুলা–সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ তাঁকে আকৃষ্ট করবে—এটাই স্বাভাবিক।
২৭ নভেম্বরের ঘোষণা তাই অনেকের কাছেই স্বাভাবিক কিন্তু রোমাঞ্চকর লেগেছে—রোনালদো অংশীদার হচ্ছেন ‘ওয়ে অব ওয়ারিয়র’ বা ওয়াও এফসির, একটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া এমএমএ ইভেন্ট–আয়োজক প্রতিষ্ঠান। রোনালদোর ভাষায়—“ওয়াও এফসি অনন্য কিছু তৈরি করছে, আর সেটির অংশ হতে পারা গর্বের।”
ওয়াও এফসি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রসার দেখাচ্ছে।
ইভেন্ট অংশগ্রহণ বেড়েছে ৪০০%
প্রতি শোতে ৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি
সম্প্রচার ১৭০+ দেশে
ইউএফসি ফাইটার ইলিয়া তপুরিয়ার উপস্থিতি
রোনালদোর যোগদান নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক মূল্য অনেক বাড়িয়ে দেবে।
তবে এখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে যায়—এটি কি শুধু ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, নাকি রোনালদো সত্যিই লড়াই–মুখী ক্রীড়া জগতে প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
বক্সার রায়ান গার্সিয়া এই প্রশ্নকে আরও উসকে দিয়েছেন। তাঁর মতে, রোনালদোর ফিটনেস ও পায়ের শক্তি তাঁকে তায়কোয়ান্দো বা কিকবক্সিংয়ের মতো শারীরিক লড়াইভিত্তিক বিভাগেও প্রতিযোগী করতে পারে। গার্সিয়ার মন্তব্য শুধু একটি মত নয়; এটি রোনালদোর শরীরী সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলা এবং অসাধারণ অ্যাথলেটিক দক্ষতার প্রতি আস্থা।
রোনালদো নিজেও ভিডিও বার্তায় বলেছেন—“ফাইটিংয়ের নতুন যুগ শুরু হচ্ছে।”
এই বাক্য শুধু বিনিয়োগের ইঙ্গিত নয়; এতে যেন রয়েছে প্রতিযোগিতায় ফেরার অনুভূতি।
তবে বাস্তব প্রশ্নগুলোও গুরুত্বপূর্ণ—
রোনালদো কি সত্যিই অক্টাগনে লড়াই করবেন?
বয়স কি বাধা হবে?
নাকি এটি কেবল ব্র্যান্ড–বিল্ডিং কৌশল?
ওয়াও এফসির প্রসারের জন্য কি তাঁর যুক্ত হওয়া বাণিজ্যিক পদক্ষেপ?
বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর এমএমএ–তে সরাসরি লড়াই করার সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে এমএমএ–র জগতে তাঁর উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির মূল্য বাড়াবে, ব্র্যান্ডগুলোকে আকর্ষণ করবে, এবং নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করবে।
একটি বিষয় অবশ্যই সত্য—রোনালদো অবসর–পরবর্তী জীবন একঘেয়ে বা প্রচলিত হবে না।
যেমন মাঠে অনন্য ছিলেন, তাঁর দ্বিতীয় ক্যারিয়ারও তেমনই চমকপ্রদ হতে চলেছে।
