বাংলাদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ রবিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে জানানো হয়েছে, নতুন দামের ভিত্তিতে প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম এখন নিম্নরূপ:
| জ্বালানি তেলের ধরন | নতুন দাম (টাকা/লিটার) |
|---|---|
| ডিজেল | ১০৪ |
| কেরোসিন | ১১৬ |
| পেট্রল | ১২০ |
| অকটেন | ১২৪ |
সরকার গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠা-নামা সরাসরি দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়। ফলে, মূল্য বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বর্তমানে দেশের বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে ডিজেল ব্যবহার হয় ৭৫ শতাংশ, এবং বাকি ২৫ শতাংশে পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন ও অন্যান্য তেল ব্যবহৃত হয়।
ডিজেল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল হিসেবে বিবেচিত। এটি কৃষি সেচ, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে, বিপিসির (Bangladesh Petroleum Corporation) লাভের বড় অংশ ডিজেল বিক্রয় থেকে আসে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির সুবিধা হলো এটি সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সহজভাবে দেশের বাজারে তুলে ধরতে সাহায্য করে। তবে, ক্রেতাদের জন্য দাম ওঠানামা কখনও কখনও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, দাম বৃদ্ধির পরও দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। বিশেষভাবে ডিজেল চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম এবং যানবাহন চলাচলের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কেবল ভোক্তাদের ব্যয়কে প্রভাবিত করবে না, বরং পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি প্রয়াস।”
দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সরকার এই পরিবর্তন নিয়ে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎস বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
