হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় ঘুষ গ্রহণ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগে দুদক রোববার বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকায় পৌঁছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ এবং বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করেছেন। অভিযানে ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যাত্রীদের ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবৈধ লেনদেন এবং জালিয়াতি ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। সংগৃহীত তথ্য ও নথি যাচাই-বাছাইয়ের পর বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিমানবন্দর দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইমেজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি চলতে থাকলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, দেশের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা থেকে বঞ্চিত হন। দুদকের এই অভিযান মূলত প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারি দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধিতে কার্যকর। দুদক আশা করছে, এই অভিযান ইমিগ্রেশন শাখায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যতের অনিয়ম প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের প্রতি সেবা মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
পরিস্থিতি থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া দুর্নীতি রোধ করা কঠিন। এমন অভিযান দেশের সরকারি সংস্থা ও জনগণের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিদেশী ও স্থানীয় যাত্রী উভয়ের জন্যই সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
