এক ভোটকক্ষে দুটি গোপন কক্ষ: ইসির প্রাথমিক সমাধান

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সম্ভাব্য গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন ধারণা নিয়ে এসেছে। ভোটকেন্দ্র সংখ্যা না বাড়িয়ে প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির বদলে দুটি গোপন কক্ষ রাখার পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে। তবে বিভিন্ন ভূগোল এবং ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে এটি আরও পর্যালোচনার বিষয়।

রোববার ইসি জাতীয় নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাক্‌-প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনায় গুণগত মান নিশ্চিত করা, কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখা এবং নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সারা দেশে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১ এবং ভোটকক্ষ ২,৪৪,৬৪৯। এক দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে কি না, তা মক ভোটের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিক উপাত্ত অনুযায়ী, একটির জায়গায় দুটি গোপন কক্ষ থাকলে ভোটকেন্দ্র বাড়ানো অপরিহার্য নয়। তবে পাহাড়ি এলাকা বা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় কিছু কেন্দ্রে আরও কক্ষ প্রয়োজন হতে পারে।

মক ভোটে দেখা গেছে, ভোটাররা গণভোটের চারটি বিষয় একসঙ্গে ভোট দেওয়ায় সময় বেশি লেগেছে। নির্বাচনের আগে প্রচারণা থাকলে এই সময় কমানো সম্ভব। ইসি সচিব জানিয়েছেন যে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন, আচরণবিধি, ভোটার প্রশিক্ষণ এবং এআই অপব্যবহার রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

ভোট কর্মকর্তাদের স্থানীয় প্রভাবশালীর আতিথেয়তা না নেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিজি প্রেস এবং আর্মি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস ব্যালট পেপার ছাপার দায়িত্বে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল, তবে অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, বেসরকারি ও সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে জাতীয় নির্বাচন, গণভোট এবং প্রবাসী ভোট সম্পর্কিত প্রচারণা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো ভোটার সচেতনতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।