বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম: প্রতিদিনের জীবন ও বাজারে প্রভাব

দেশের বাজারে ডিসেম্বর মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন দামে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০৪ টাকা, পেট্রল ১২০ টাকা, অকটেন ১২৪ টাকা এবং কেরোসিন ১১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

সরকার গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক তেলের মূল্য, মুদ্রা বিনিময় হার এবং স্থানীয় সরবরাহ খরচ বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তি ব্যবহারের জন্য প্রধানত অকটেন ও পেট্রল ব্যবহৃত হয়। ডিজেলের তুলনায় এদের দাম বেশি রাখা হয়, কারণ ডিজেল ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প খাতের জন্য ব্যবহার হয়, যা ন্যূনতম ব্যয়সংক্রান্ত।

জ্বালানি তেলের দামের নির্ধারণের দায়িত্ব বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। বিমানের জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), ফার্নেস তেলের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাবও তাদের কাছে আছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর হলেও সাধারণ মানুষ, পরিবহণ খাত এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য প্রতি লিটার ২ টাকার বৃদ্ধি মাসিক ব্যয়ে লক্ষণীয় প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে তারা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কারণে দামের এমন সমন্বয় অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি দেশের জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি পূর্বাভাসযোগ্যতার সুযোগও দেয়।

ডিসেম্বরের এই দাম সমন্বয় দেশের সড়কপথ, শিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ খাতে প্রভাব ফেলবে। জনগণ ও ব্যবসায়ীরা একদিকে ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে সরকারের স্বচ্ছতা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা দেখতে হবে।