বোলিং দুর্বলতায় দগ্ধ ভারতকে রক্ষা করলেন কোহলি

রাঁচিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইটা ছিল পরিসংখ্যানের দিক থেকেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ৩৪৯ রান করে ভারত ম্যাচের মোট নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, কিন্তু পরের পরিসংখ্যানই দেখায়—দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ৪৯.২ ওভারে ৩৩২ রান তুলে তারা হার মানে মাত্র ১৭ রানে। অর্থাৎ রান তাড়ায় প্রতি ওভারে ৬.৭৭ রান করেও জয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল দলটি।

ভারতের ইনিংসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ছিল কোহলির ১৩৫ রান—যা এসেছে ১২০ বলে, স্ট্রাইক রেট ১১২.৫০। তাঁর ৭ ছক্কা দেখায় যে পাওয়ার হিটিংয়েও তিনি এখনো সমান কার্যকর। অন্যদিকে রোহিত শর্মার ৫৭ রান স্ট্রাইক রেট ১১১-এর বেশি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—রোহিত এই ম্যাচেই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করেন।

ভারতের বোলারদের মধ্যে কুলদীপ যাদব ১০ ওভারে ৬.৮০ ইকোনমিতে ৪ উইকেট নেন, যেখানে রানা ৩ উইকেট নিলেও তাঁর ইকোনমি ছিল ৬.৫০। দলের পরিকল্পনায় কুলদীপের ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রোটিয়াদের দিকে তাকালে দেখা যায়—শুরুতে ৩ উইকেট হারিয়েও তারা যে ৩৩২ রান তুলেছে, সেটাই বড় পরিসংখ্যান। বিশেষ করে ইয়ানসেন ও ব্রিটজকের জুটি—৬৯ বলে ৯৭ রান—৬.৫২ রান রেটকে এক লাফে ৮.৪০-এর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। ইয়ানসেনের ইনিংসটি—৩৯ বলে ৭০—স্ট্রাইক রেট ১৭৯! ব্রিটজকের ৮০ বলে ৭২ ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল।

করবিন বশের ৫১ বলে ৫৭ রানের ইনিংসও দক্ষিণ আফ্রিকার চাপে থাকার পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৮ রান; ঐতিহাসিক রান তাড়ার দলটি চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভারতের ফিল্ডিং ও বোলারদের শৃঙ্খলা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মোটকথা, রাঁচির ম্যাচটি শুধু রোমাঞ্চ নয়, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও ব্যাটার ও বোলারদের তীব্র লড়াইয়ে ভরা একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে।