ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হবে। এছাড়া, যারা ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব পাননি তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও সরকারি ভর্তুকি বাতিল করা হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে সামাজিক মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

তবে তিনি স্পষ্ট করেননি কোন প্রক্রিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অভিবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো আদালত ও কংগ্রেসের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের পাশে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটায় ট্রাম্প আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন মনে করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ বলতে সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এবং দারিদ্র্যের উচ্চমাত্রার দেশগুলো বোঝানো হয়। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ও জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ ও নাইজার এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান ২০২৫ সালের সূচকে ১৩০তম।

এছাড়া, হোয়াইট হাউসের পাশের ঘটনার প্রেক্ষিতে এক আফগান নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যারা দেশের কল্যাণে নয়, তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি ১৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পুনরায় পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তালিকায় আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করবে। অভিবাসন ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।