দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজায় অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে। বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় পুরো এলাকা তাদের প্রশাসনিক ও পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরাইলি চ্যানেল-১৩ এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির মন্ত্রিসভায় একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে গাজায় হামাসের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজার মোট ২৫টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টি ইতোমধ্যে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেছে। হামাসের অধীনস্থ পুলিশ বাহিনী পুনরায় সক্রিয় হয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ চেকপোস্ট স্থাপন করেছে। দখলদার সেনাবাহিনীর মতে, হামাসের এই পুনর্গঠন গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা সংক্রান্ত পরিকল্পনাগুলো এই পরিস্থিতির কারণে বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার সাধারণ মানুষ হামাসের এই ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। অস্ত্রবিরতির পর ইসরাইলি বাহিনী সরে গেলে এলাকায় চুরি, লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে গিয়েছিল। হামাস সদস্যরা পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গাজার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, বিশৃঙ্খলা দমনে হামাসের বিকল্প কেউ নেই।
এদিকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও হামাস তার সক্রিয়তা বজায় রেখেছে। মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কায়রোতে অস্ত্রবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিসরীয় ও তুর্কি গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও চুক্তি বাস্তবায়নের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় হামাস কেবল একটি সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান পুনরায় পাকাপোক্ত করেছে।
জিলাইভ/টিএসএন
