পল্লবীর এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে; টাকা না দিলে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার ভয় দেখানো হয়েছে। নির্ধারিত টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি করা হয়। এ ঘটনার পর ব্যবসায়ী পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজধানী ও দেশজুড়ে নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে গেছে। চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের পর বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী জানান, নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে এবং হত্যার হুমকি দিয়েছে।
কারওয়ানবাজার, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, তেজগাঁও, উত্তরা, মতিঝিলসহ রাজধানীর ফুটপাতে প্রতিদিন ১০০–৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। হকার্স মালিক সমিতির এক নেতা জানাচ্ছেন, চাঁদাবাজরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করছে।
অধিকাংশ চাঁদাবাজের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তারা ব্যবসা, পরিবহন, আবাসন ও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তার করছে। গত ১৪ মাসে চাঁদা না দেওয়ায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে; রাজধানীতে ২০ জন। পুলিশ জানিয়েছে, গত দশ মাসে এক হাজারের বেশি চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হয়েছে।
ঢাকার পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকার চাঁদা ওঠে; মাস শেষে তা ৬০–৮০ কোটি টাকা। দেশে বছরে হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি ঘটে। সরকারি ও পুলিশের উদ্যোগ থাকলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থামছে না।
গোয়েন্দারা পাঁচটি চক্রকে চাঁদাবাজির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ, প্রশাসনের স্বার্থান্ধ মহল, স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ও পেশাজীবী সংগঠনের আড়ালে থাকা নেতারা।
জিলাইভ/টিএসএন
