দীর্ঘ বিরতি শেষে লিগে ফের উত্তাপ, বাফুফের লোগো বিতর্কেও আলোচনা

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে ৩৪ দিনের লম্বা বিরতির পর। জাতীয় দলের সূচি শেষ হওয়ায় লিগ ফের মাঠে ফিরছে ঠিকই, কিন্তু এ বিরতি লিগের সামগ্রিক পরিচালনা, ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং বাফুফের পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্নও সামনে এনেছে।

আগামীকাল আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ লিগের আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু মাঠের প্রতিযোগিতার চেয়ে অন্তরালের সংকটই এখন বেশি আলোচিত। মোহামেডান গত মৌসুমে ২২ বছরের খরা ভেঙে শিরোপা জিতেছিল, অথচ নতুন মৌসুমে মাত্র দুই ম্যাচেই তারা ধুঁকছে। তার ওপর খেলোয়াড়েরা বেতন না পেয়ে ক্লাবকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন—যা কোনও পেশাদার লিগেই স্বাভাবিক নয়। আবাহনীও একই সংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

লিগে ফিরেও ক্লাবগুলোকে মানসিক স্থিতি নিয়ে খেলতে হবে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার আগে আর্থিক সঙ্কট সামলানো তাদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে বাফুফের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও নতুন করে সামনে এসেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর লিগ শুরু হলেও দুই রাউন্ড পেরিয়ে গেলেও লিগের নতুন লোগো দেখা যায়নি। প্রায় দুই মাস পরে এসে লোগো ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাও প্রকাশিত লোগোকে অনেক সমর্থক খুব সাধারণ, অপ্রাণবন্ত এবং অন্যান্য অ্যাপ ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিল আছে বলে অভিযোগ করেছেন।

যদিও বাফুফে মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম দাবি করেছেন—লোগোটি গুরুত্বসহকারে তৈরি হয়েছে এবং কোনো মিল থাকলে তা কাকতালীয়। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—একটি দেশের সর্বোচ্চ ঘরোয়া লিগের ব্র্যান্ডিং কেন এত দেরিতে ও এত ত্রুটিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে?

বিরতির পর লিগ মাঠে ফিরলেও, বাংলাদেশের ফুটবলের বড় সমস্যা মাঠে নয়—মাঠের বাইরেই। পেশাদার লিগের কাঠামো, ক্লাবগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ঠিক না হলে মাঠের খেলা কখনোই পুরো শক্তিতে দাঁড়াতে পারবে না।