দোহা যেন অপেক্ষা করে ছিল এক রূপকথার জন্ম দেখার। কিন্তু স্বপ্নের কাছে দাঁড়িয়েও পারল না বাংলাদেশ ‘এ’। রিপন মণ্ডল আর সাকলাইন—দলের শেষপ্রান্তের দুই সৈনিক—জেতার মতো গল্প গড়তে চেয়েছিলেন প্রাণপণ। তবু শেষে শিরোপা উড়ে গেল পাকিস্তান শাহিনসের হাতে। সুপার ওভারের হাহাকারই রইল বাংলাদেশের জন্য।
ফাইনালের শুরুটা ছিল অন্যরকম। পাকিস্তান শাহিনস ১২৫ রানে থেমে গেলে বাংলাদেশের শিবিরে ভর করে প্রত্যাশা। রিপনের আগুনঝরা বোলিংয়ে ৩ উইকেট, রাকিবুলের নিয়ন্ত্রিত স্পিন—সব মিলিয়ে এটি ছিল স্বপ্নের মতন বোলিং পারফরম্যান্স। মনে হচ্ছিল, আজই বুঝি ইতিহাস rewritten হবে।
রান তাড়ায় হাবিবুর রহমানের তুফানী ২৬ রানে দল দারুণ ছন্দে ছিল। কিন্তু তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই যেন সব আলো নিভে যায়। চোখের পলকে ৫৩ রানে ৭ উইকেট—ফাইনালের চাপ কি সত্যিই এতটাই ভয়ঙ্কর? বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে তখন নীরবতা।
কিন্তু এখানেই শুরু হয় গল্পের অন্য অধ্যায়—দুই টেইলেন্ডারের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। রিপন ও সাকলাইন এমনভাবে খেলতে শুরু করলেন, যেন তাঁদের ব্যাটিং হাতে লুকিয়ে আছে অদেখা সব জাদু। ১৯তম ওভারে ২০ রান তোলে তাঁরা। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৭। ঠিক সেখানেই হোঁচট। তবুও শেষ বলে রিপনের নেওয়া এক রান বাঁচিয়ে দেয় ম্যাচ, নিয়ে যায় সুপার ওভারের রোমাঞ্চে।
কিন্তু ভাগ্য এবার আর হাত বাড়িয়ে দিল না। বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ৬ রান। পাকিস্তান ৪ বলেই টেনে নেয় লক্ষ্য। গ্যালারিতে তখন একদল নীরবতা, অন্যদল উল্লাসে ফেটে পড়ছে।
বাংলাদেশ ‘এ’-র এই ফাইনালটি শুধু হার নয়—এটি ছিল শেখার গল্প, লড়াইয়ের গল্প, অপূর্ণতার গল্প। এই অভিজ্ঞতাই হয়তো আগামীদিনে বড় কিছু গড়ার ভিত্তি হয়ে থাকবে।
