আফজাল হোসেনের রুনা লায়লা কে নিয়ে ভাবনা

কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমের সমাপ্তি চিহ্নিত হলো কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া ‘মাস্ত কালান্দার’ গান দিয়ে। গানটি ১৭ নভেম্বর রুনা লায়লার জন্মদিনে প্রকাশিত হয়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন জয় করেছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে গানটি পুনরায় গাওয়ায় রুনা লায়লা নিজেই বলেন, এটি তাঁর হৃদয়ের কাছে সবসময় বিশেষ।

অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন গানটি শুনে নিজের আবেগ ও চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক অপ্রয়োজনীয় ও অসুন্দর চিন্তায় ব্যস্ত থাকি, অথচ জীবনের অর্থ, প্রেরণা ও সঠিক দিশা খুঁজে বের করার জন্য সময় বের করি না। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের কথায় তিনি উদাহরণ টানেন: “বেঁচে থাকাটা বড় কথা নয়, কীভাবে বেঁচে আছি সেটাই বড়।”

পোস্টে আফজাল হোসেন শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষের অবদানের প্রতি সমাজের অবহেলার কথা তুলে ধরেন। চিত্রকর, লেখক বা গায়ক প্রায়শই নীরবভাবে কাজ করে যান; তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি না পেয়ে তারা আনন্দ ও সন্তুষ্টি খুঁজে পান নিজের কাজের মধ্যে। আফজাল হোসেন লিখেছেন, “শিল্পীরা নিবিষ্ট মনে কাজ করে যান—কণ্ঠশিল্পী গানেই খুঁজে পান সুখ, লেখক মনের আনন্দে লিখেন। এ নিবেদন সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে একটি নীরব শক্তি হিসেবে।”

রুনা লায়লার অসাধারণ শিল্পী পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা আফজাল হোসেনকে প্রভাবিত করেছে। তিনি সমাজের অসংলগ্নতা ও বিভাজনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, যেখানে মানুষ প্রায়শই অমূলক বিতর্ক ও ঘৃণার মধ্যে সময় নষ্ট করে। এই অন্ধকারের মাঝেও কোক স্টুডিও বাংলার আয়োজন ও রুনা লায়লার গান তাকে আশাবাদী করেছে। তিনি লিখেছেন, “রুনা লায়লা ও ‘মাস্ত কালান্দার’ জীবনে নতুন বিস্ময়, আলাদা রঙের আনন্দ ও প্রাণের উষ্ণতা নিয়ে এসেছে।”