রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল এমন আধিপত্য দেখিয়েছিল যে শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর খুব বেশি কিছু নির্ভর করছিল না। প্রথম দুই ম্যাচে বড় জয়ের ধাক্কায় দল কার্যত সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেই মাঠে নামে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে। লক্ষ্য ছিল কেবল জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দোহায় অল্প ব্যবধানে ৬ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দলকে।
যদিও হারটি মোটেও দলের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়নি। সমান ৪ পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও উন্নত নেট রান রেটে গ্রুপসেরা হয়েই বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বী—ভারত। এ লড়াইকে অনেকেই ‘আর্লি ফাইনাল’ বলছেন।
ম্যাচে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ভরসা পেয়েছিল সাহান আরিচিগের দুর্দান্ত ৬৯ রানের ইনিংস থেকে। তাদের মোট স্কোর দাঁড়ায় ১৫৯/৭—যা টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিযোগিতামূলক, বিশেষ করে দোহা পিচের ধীর আচরণে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিপন মন্ডল ও আবু হায়দার প্রত্যেকে দুই উইকেট নিলেও মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখতে ব্যর্থ হন।
জবাবে বাংলাদেশ শুরুতে চমৎকার ছন্দে থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। হাবিবুরের ১৪ বলে ২৭ এবং জিশানের ১৬ বলে ১৭ রান দলের আগ্রাসী শুরু এনে দিলেও কেউই বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। ফলে মিডল অর্ডারকে ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হয়। জাওয়াদ আবরার (২৬) ও আকবর আলী (২৫) চেষ্টা করেও দলকে নিরাপদ অবস্থায় নিতে পারেননি।
ম্যাচ জমে ওঠে শেষ ওভারে—প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। ইয়াসির আলীর ছক্কায় ১২–১৩ রানের সমীকরণ মিললেও পরের চারটি বলে ব্যাটাররা কোনো রান নিতে পারেননি। বরং শেষ বলে রানআউট হয়ে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের লড়াই। স্কোরবোর্ডে ১৫৩/৬—বিজয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে।
তবে পরাজয়ের আড়ালেও আশাবাদ রয়েছে। পুরো গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ দেখিয়েছে সংগঠিত দলীয় পারফরম্যান্স, শক্তিশালী বোলিং ইউনিট ও আগ্রাসী ব্যাটিং পন্থা। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল তাই হবে এক কঠিন পরীক্ষা—কিন্তু সুযোগও, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের।
অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। এশিয়ার উঠতি খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতা হিসেবে রাইজিং স্টারস কাপ এখন সমাপ্তির দিকে, এবং টুর্নামেন্টের আকর্ষণ জমে উঠেছে শেষ চারকে ঘিরে।
