বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (CDN) এবং সাইবার প্রতিরক্ষা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার–এর নেটওয়ার্কে হঠাৎ উদ্ভূত ত্রুটি বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক ওয়েবসাইটকে একই সময় অচল করে দেয়। ইন্টারনেট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিডস সুরক্ষা এবং ওয়েব অপটিমাইজেশনে ক্লাউডফ্লেয়ারের কার্যকর ভূমিকার কারণে বিপর্যয়ের প্রভাবও ছিল ব্যাপক—এমনকি এক পর্যায়ে বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ে।
অনলাইন সেবা বিঘ্ন পর্যবেক্ষণকারী ডাউনডিটেক্টর জানায়, ত্রুটি শুরু হতেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে প্রবেশে সমস্যা দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স, মিউজিক স্ট্রিমিং সেবা স্পটিফাই, ডিজাইন টুল ক্যানভা, ডেটিং অ্যাপ গ্রাইন্ডার, সুপরিচিত গেম লিগ অব লেজেন্ডস এবং ই–কমার্স সাইট অ্যামাজন—সবই এই নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের শিকার হয়।
বাংলাদেশেও একই সময়ে ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়; বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর দেশের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটসহ বহু পোর্টালে প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীদের আকস্মিক এই অচলাবস্থা নিয়ে হাজার হাজার অভিযোগ ডাউনডিটেক্টরে জমা হতে থাকে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ডাউনডিটেক্টরে ক্লাউডফ্লেয়ার–সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ৫,০০০–এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা পরবর্তী দুই ঘণ্টায় ধীরে কমে ৬০০–এর নিচে নেমে আসে। তবে এ সংখ্যা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিফলন নয়—বরং ব্যবহারকারীদের স্বপ্রণোদিত রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় এর চেয়েও অনেক বেশি ওয়েবসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ‘অস্বাভাবিক ট্রাফিক’ শনাক্ত করার পরই সার্ভিসে অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি হয়। একজন মুখপাত্র বলেন,
“এই অস্বাভাবিক ট্রাফিকের উৎস আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে সার্ভিস স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে চেষ্টা চলছে। ট্রাফিক স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা ত্রুটির মূল কারণ শনাক্তে মনোযোগ দেব।”
প্রায় ২০ মিনিট পর পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি হলেও সমস্যার প্রকৃত উৎস নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিপর্যয় দেখিয়েছে বৈশ্বিক ইন্টারনেট কাঠামো কতটা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। একটি মাত্র কোম্পানির নেটওয়ার্কে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে পুরো অনলাইন ইকোসিস্টেমে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা মোকাবিলায় বিকল্প অবকাঠামো বা আরও বিকেন্দ্রীকৃত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
