দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি, কর্মবিরতি প্রত্যাহার

১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি শুরু হয়। শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন এবং শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্র ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা আসন্ন হওয়ায় প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী পাঠ বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষকদের দাবি, ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। ১১টি সংগঠন একযোগে আন্দোলন করছে। গত শনিবার শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পদযাত্রা করেন, কিন্তু শাহবাগ এলাকায় পুলিশ তাদের পদযাত্রা থামিয়ে দেয় এবং লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এরপর শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এছাড়া, তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগের দাবি জানায়। শিক্ষকরা কালো কাপড় বেঁধে মিছিলও করেন এবং কাফনের কাপড় পরে দাবি আদায়ের ঘোষণা দেন।

গত ২৪ এপ্রিল এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানিয়েছিল গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

শিক্ষকদের কর্মবিরতির ফলে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে চলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর আগে ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি, ১৭ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি এবং ২৬ মে থেকে চার দিন টানা কর্মবিরতি পালন করেছিলেন শিক্ষকরা, কিন্তু সে সময় দাবির কিছুটা সমাধান পাওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছিলেন।

কিন্তু কেন আবার আন্দোলনে? শিক্ষক নেতা আবুল কাশেম জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ১ জুন থেকে তারা ক্লাসে ফিরে গিয়েছিলেন, কিন্তু আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে, তারা আবারো আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষকদের দাবি, পে-কমিশনের কার্যক্রম সামনে রেখে ১০ম গ্রেডে বেতন আদায় করতে হবে।

এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানালেন, তারা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। তবে এটি যদি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়, তবেই শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড পাওয়া সম্ভব হবে।