ইন্দোনেশিয়ার এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের বিলাসবহুল বিয়ের খবর এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে। ৭৪ বছর বয়সী তারমান নামের এক সম্পদশালী ব্যক্তি তাঁর চেয়ে ঠিক ৫০ বছরের ছোট এক তরুণীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করেছেন। বয়সের বিশাল পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, তারমান প্রমাণ করেছেন যে পছন্দের মানুষকে আপন করে নিতে তিনি যেকোনো অংকের অর্থ ব্যয়ে প্রস্তুত।
প্রণয় থেকে পরিণয়: প্রতিকূলতা জয়ের গল্প
তারমান যখন ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান, তখন কনে পক্ষের স্বজনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেরই ঘোর আপত্তি ছিল এই অসম বিয়ে নিয়ে। তবে কনের সম্মতি এবং তারমানের দেওয়া মোটা অংকের ‘ব্রাইড প্রাইস’ বা যৌতুক প্রদানের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত সব বাধাকে হার মানায়। ইন্দোনেশীয় সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ের এই বিশেষ শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বৃদ্ধ তারমান কোনো কার্পণ্য দেখাননি।
বিয়ের প্রধান ব্যয়ের খাতসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
| খাতের বিবরণ | আনুমানিক ব্যয় (রুপি/টাকা) | মন্তব্য |
| ব্রাইড প্রাইস (চেক) | ১ কোটি ৬০ লক্ষ ভারতীয় রুপি সমমান | কনের হাতে সরাসরি হস্তান্তর। |
| বিয়ের রাজকীয় ভোজ | ৩৫ লক্ষ রুপি প্রায় | কয়েক হাজার অতিথির আপ্যায়ন। |
| উপহার ও অন্যান্য | ১৫ লক্ষ রুপি প্রায় | স্বর্ণালঙ্কার ও দামী পোশাক। |
| সর্বমোট ব্যয় | প্রায় ২ কোটি টাকা | তারমানের ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে ব্যয়। |
বিয়ে পরবর্তী নাটকীয়তা ও পাওনাদারের অভিযোগ
বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে যখন নবদম্পতি একটি বাইকে চড়ে কনের বাড়ি ত্যাগ করছিলেন, তখনই বিয়ের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা ফটোগ্রাফাররা অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, বিয়ের যাবতীয় কাজের পারিশ্রমিক না মিটিয়েই তারমান কনেকে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পুলিশ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় এবং তারমানের দেওয়া বড় অংকের চেকটি নিয়ে জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
তারমানের আত্মপক্ষ সমর্থন
বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে তারমান নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি এবং তাঁর দেওয়া চেকটি শতভাগ আসল ও বৈধ। কনের পরিবারও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, নবদম্পতি বর্তমানে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন এবং পাওনাদারের বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এ প্রকাশিত এই খবরটি এখন ইন্দোনেশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
