আফগান যুবাদের দাপট: সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে এল টাইগারদের
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজটি বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়ের মাধ্যমে শুভসূচনা করলেও পরপর দুই ম্যাচে পরাজয় এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন ব্যাকফুটে স্বাগতিকরা। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৪৭ রানের হারে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে জয়ের আশা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Table of Contents
আফগান যুবাদের ব্যাটিং দৃঢ়তা ও ইমনের ৬ উইকেট
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। সফরকারী দলের টপ অর্ডার ব্যাটার ফয়সাল খান শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন। তিনি ১১৬ বলে ১১২ রানের একটি ঝকঝকে সেঞ্চুরি হাঁকান, যা আফগানিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই, যিনি ১০০ বলে ৭২ রান করেন।
তবে আফগানদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। তিনি একাই ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ইনিংসকে ৪৯ ওভার ৩ বলে ২৫৮ রানে থামিয়ে দেন। ইমনের এমন বিধ্বংসী বোলিং বাংলাদেশের জন্য জয়ের আশা জাগিয়েছিল।
টপ অর্ডার বিপর্যয় ও লড়াইয়ের ব্যর্থ চেষ্টা
২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪০ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন ৬ জন টপ অর্ডার ব্যাটার। এই ধস সামাল দিতে মাঠে নামেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও দেবাশীষ সরকার। সপ্তম উইকেটে তাঁরা ১০৮ রানের এক লড়াকু জুটি গড়েন।
তবে লড়াই করলেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেটের সঙ্গে তাঁরা পাল্লা দিতে পারেননি। বিশেষ করে আবদুল্লাহর ধীরগতির ব্যাটিং (১৬০ বলে ৯৫ রান) ইনিংসটিকে দীর্ঘায়িত করলেও লক্ষ্য ছোঁয়া কঠিন করে তোলে। দেবাশীষ সরকার ৬১ বলে ৫১ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের পক্ষে আব্দুল আজিজ ৪টি উইকেট শিকার করেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ | বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ |
| মোট রান | ২৫৮ (১০ উইকেট, ৪৯.৩ ওভার) | ২১১ (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) |
| সেরা ব্যাটার | ফয়সাল খান (১১২), উজাইরউল্লাহ (৭২) | মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৯৫), দেবাশীষ (৫১) |
| সেরা বোলার | আব্দুল আজিজ (৪/৩৪) | ইকবাল হোসেন ইমন (৬/৪০) |
| ফলাফল | আফগানিস্তান ৪৭ রানে জয়ী | সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আফগানরা |
টাইগারদের পরাজয়ের মূল কারণসমূহ
এই ম্যাচে বাংলাদেশের হারের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ লক্ষ্য করা গেছে:
টপ অর্ডার ব্যর্থতা: ইনিংসের শুরুতেই ৬ উইকেট হারানো যেকোনো দলের জন্য ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শামিল।
ধীরগতির ব্যাটিং: আবদুল্লাহ ৯৫ রান করলেও তিনি বল খেলেছেন ১৬০টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫-এর উপরে রান রেট প্রয়োজন থাকলেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল অনেক কম।
বিগ হিটারের অভাব: লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তোলার মতো কোনো কার্যকর ইনিংস না আসায় জয়ের ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।
পরবর্তী লক্ষ্য
সিরিজের এখন শেষ ম্যাচটি বাকি। যদি বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটি জিততে পারে তবে সিরিজটি ২-২ সমতায় শেষ হবে। তবে টাইগার যুবাদের প্রধান লক্ষ্য হবে টপ অর্ডারের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো।
পরিশেষে বলা যায়, ইকবাল ইমনের ৬ উইকেট শিকার এই ম্যাচের প্রাপ্তি হলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা সামগ্রিক ফলাফলকে ম্লান করে দিয়েছে।
