৩ লাখ কোটি টাকার ব্যাংক পাচারের কারণ জানালেন গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাতের সংকটজনক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্নেন্স ফেইলর। তিনি বলেন, “সরকারি নীতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অবহেলার অবদান অস্বীকার করা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হলো ব্যক্তিগত মালিকানার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ। উদাহরণ হিসেবে, ইসলামী খাতের পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত করা হলেও সব ব্যাংক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবের কারণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতি।”

গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, “পৃথিবীর প্রধান চারটি আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত তৃতীয় স্থানে থাকলেও বাংলাদেশে এটি শীর্ষে অবস্থান করছে। এর ফলে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির মুখে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে হবে।”

তিনি দেশের ব্যাংকের অতিরিক্ত সংখ্যার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে ১০–১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে ৬৪টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যয় বেড়ে গেছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমালে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয়ের সমান বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের তুলনা করা যেতে পারে।

নিচের টেবিলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এবং কিছু আন্তর্জাতিক উদাহরণের তুলনামূলক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বাংলাদেশসিঙ্গাপুর (উদাহরণ)মন্তব্য
ব্যাংকের সংখ্যা৬৪অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বেড়ে গেছে
মোট অর্থসম্পদ ক্ষতি≈৩ লাখ কোটি টাকাচেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে অর্থ লোপ হয়েছে
ব্যাংকিং খাতের অবস্থান১মতৃতীয়বাংলাদেশে অন্যান্য খাত ক্ষতির মুখে
সম্ভাব্য ব্যাংক সংখ্যা১০–১৫লাভজনকতা বাড়াতে ব্যাংক সংখ্যা কমানো প্রয়োজন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বর্তমান গভর্নর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়, এবং দীর্ঘদিন ধরে যে অনর্থ ঘটেছিল তা শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও সহায়তায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এখন ধাপে ধাপে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তারা উভয়েই ব্যাংক খাতের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য এই সুসংগঠিত পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।