ভারতের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। অকালে ঝরে গেলেন সাবেক ভারতীয় ফুটবলার ও নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সুখেন দে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এমন আকস্মিক বিদায়ে হতবাক সতীর্থ, কোচ, ক্লাব কর্মকর্তা ও অগণিত ফুটবলপ্রেমী। বয়সের হিসেবে যাঁর সামনে ছিল আরও দীর্ঘ পথচলা, তাঁর এমন অকালপ্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর সুখেন দে কর্মরত ছিলেন ভারতীয় রেলে। প্রতিদিনের মতোই ঘটনার দিনও তিনি দায়িত্ব পালন করতে যোগ দিয়েছিলেন কর্মস্থলে। কিন্তু ডিউটির মাঝেই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন সুখেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, আর মাত্র পাঁচ দিন পরই—আগামী ১ জানুয়ারি—পালনের কথা ছিল তাঁর জন্মদিন। জন্মদিনের আগেই চিরবিদায় নিলেন এই নীরব যোদ্ধা।
মোহনবাগানের সাফল্যে অবিস্মরণীয় অবদান
সুখেন দে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানের জার্সিতে। ২০১৪–১৫ মৌসুমে সবুজ-মেরুন জার্সিতে আই-লিগ শিরোপা জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিশেষ করে স্পোর্টিং গোয়ার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে তাঁর ভূমিকা আজও সমর্থকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। সে সময় স্পোর্টিং গোয়ার ভয়ংকর স্ট্রাইকার ওডাফা ওকোলিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন সুখেন। যাঁর পায়ে বল মানেই প্রায় নিশ্চিত গোল—সেই ওডাফাকে আটকে রেখে মোহনবাগানের শিরোপা জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার।
আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভরযোগ্য রক্ষণপ্রহরী
মাঠে সুখেন দে ছিলেন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে কখনও আপস করতেন না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি একাই সামলেছেন মোহনবাগানের রক্ষণভাগ। তাঁর খেলায় ছিল দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা আর দলকে আগলে রাখার মানসিকতা—যা একজন আদর্শ ডিফেন্ডারের পরিচয় বহন করে।
ক্যারিয়ারের শুরু ও পথচলা
সুখেন দের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের হাত ধরে। ২০১১–১২ মৌসুমে এই ক্লাবের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হয়। টানা তিন মৌসুম ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে খেলেন তিনি এবং একজন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি তাঁর গোল করার নজিরও রয়েছে ইউনাইটেডের জার্সিতে।
সুখেন দে: সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল :
| বিষয় | তথ্য |
| পূর্ণ নাম | সুখেন দে |
| বয়স (মৃত্যুকালে) | ৩৫ বছর |
| পজিশন | ডিফেন্ডার |
| পেশাদার অভিষেক | ২০১১–১২ (ইউনাইটেড স্পোর্টস) |
| উল্লেখযোগ্য ক্লাব | ইউনাইটেড স্পোর্টস, মোহনবাগান |
| বড় সাফল্য | ২০১৪–১৫ আই-লিগ জয় (মোহনবাগান) |
| মৃত্যুর কারণ | হৃদরোগ |
সুখেন দে চলে গেলেও তাঁর লড়াকু মানসিকতা, মাঠের নিষ্ঠা ও অবদান ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এত অল্প বয়সে তাঁর চলে যাওয়া কেবল একটি পরিবার নয়, পুরো ফুটবল সমাজের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।
